ধানের শীষের সমর্থনে মারমা ঐক্য পরিষদের নির্বাচনী পথসভা

 


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়ার সমর্থনে খাগড়াছড়িতে পথসভা করেছেন মারমা ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের সরকারি কলেজ মাঠ থেকে এ পথসভা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এইদিন দুপুরে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ থেকে বিশাল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে মারমা জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যোগ দেন।

পথসভায় ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি খাগড়াছড়ি জেলার উন্নয়নের কাজ করতে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, মারমা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষত যারা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করার কথা বলেছেন বিএনপির এই প্রার্থী।

পথসভায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি কংচাইরী মাস্টারের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার এবং যুগ্ম-সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ মারমা জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

বাগাছাসের ৬৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

 


বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৬৪ সদস্যের এই কমিটিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাগাছাসের নেতা-কর্মীরা স্থান পেয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অনন্য অনিক রেমা ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ন রিছিল স্বাক্ষর করেছেন।

বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এক নম্বর সহ-সভাপতি করা হয়েছে অর্ক ডেনিশ ধ্রুব সাংমাকে। এছাড়াও আনসেং দালবৎ, অতি দ্রুত সাংমা, তেনজিং দিব্রা, রনি আজিম, শুমলা রিছিল সহ-সভাপতি হয়েছেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে তীর্থ রুরাম, রনি চিরান, মিলিংটন মানখিন, তিথি দিও, শিমন রিছিল ও সহ-সাংগঠনিক হিসেবে রয়েছেন চাংকি চিছাম, অক্ষয় হাগিদক, সান চাম্বুগং, পিতি নকরেক ও বিপ্লব রেমা।

গত বছরের ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ময়মনসিংহের ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ভবন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় সংসদের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক অঞ্জন ম্রং। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ছিলেন রঞ্জিত নকরেক, শ্যামল মানখিন, লিংকন ডিব্রা ও অনুপ হাদিমা।

ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তিকে অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান

 


জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। এ জন্য জাতীয় রাজনৈতিক দলসমূহকে চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংগঠনটির তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও খায়রুল ইসলাম চৌধুরী চিঠিতে সই করেছেন। এতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ পাঁচ দফা দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিটি ইতোমধ্যে বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি, জামায়াত সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলসমূহকে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী–অধ্যুষিত বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি অঞ্চল। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে। তারা নিজস্ব শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়া থেকেও বঞ্চিত হয়ে আছে।

আরও বলা হয়েছে, এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি সই হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য সমস্যার সমাধানও হয়নি। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সংহত ও সম্পূর্ণ করার জন্য এক ‘সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছে’ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আরও অধিক গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে।’

 

রঁদেভূর নতুন সভাপতি জাল্লাং কুবি, সম্পাদক শ্রেয়া তালুকদার

 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর অষ্টম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার চবি ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল পুকুর পাড়ে সংগঠনটির বার্ষিক মিলনমেলা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাল্লাং এনরিকো কুবি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়া তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ক্যাপ্রিও চাকমা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ণ ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাঞ্চন চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হ্লুবাইশু চৌধুরী প্রমুখ।

ড. কাঞ্চন চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ভূমিকা রেখে আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষার্থী সমাজের কাছে নিজ নিজ ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে দিচ্ছে যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিজেদের সংগঠনের জন্য নিজেদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন বলেন, নিজের সংস্কৃতিকে চর্চার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য রঁদেভূর মতো সংগঠন প্রাসঙ্গিক। রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীকে কাজ করার মাধ্যমে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো, চাক স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মংক্যউ চাক, নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সহ-সভাপতি পারমিতা চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুসান্না টুডু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চাকমা, ম্রো, মারমা লিপি

 


ডিজিটাল মাধ্যমে নিজভাষার বর্ণমালা দিয়ে লিখতে পারবেন বাংলাদেশের চাকমা, মারমা ও ম্রো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। মোবাইলে ইউবোর্ড অ্যাপস ইনস্টল করে খুব সহজে লিখতে পারবেন বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায়ও।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী ভাষার ডিজিটাইজেশন কম্পোনেন্ট ইউবোর্ড ও ফন্ট শীর্ষক এক কর্মশালায় এ কথা জানান ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইবিএলআইসিটি। কর্মশালায় এর ব্যবহার শিখিয়ে দেন ইবিএলআইসিটি কর্মকর্তারা।

দেশের ভাষা গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক ইবিএলআইসিটি এই কর্মশালা আয়োজন করে। এতে দেখানো হয় খুব সহজে কীভাবে ইউবোর্ডের মাধ্যমে চাকমা, মারমা, ম্রোসহ দেশের ছয়টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভাষা লেখা যায়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের ভাষার বর্ণমালাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডেটা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে পারলে সেগুলোও ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিদ্যমান সব জনগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। এ সংরক্ষণকাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তখন গবেষণা ও উন্নয়নকাজ সহজতর হবে। এতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের ভাষা সংরক্ষণ করতে পারবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। যেসব জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ করতে চায়, তারা ইবিএলআইসিটির মাধ্যমে ভাষা উন্নয়ন করতে পারবে।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন ইবিএলআইসিটির প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব করিম, পরামর্শক মামুন অর রশীদ, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক জিতেন চাকমা, গবেষক প্রসন্ন কুমার চাকমা, মনোজ বাহাদুর গুর্খা।

পিসিপি রাবির নতুন সভাপতি উজানী চাকমা, সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা

 

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে উজানী চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামীন ত্রিপুরা নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া হলরুমে সংগঠনটির রাবি শাখার অষ্টম কাউন্সিলে তারা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিলে সংগঠনটির সদ্যবিদায়ী সভাপতি সমু চাকমা সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুপসী চাকমা বলেন, নারীদের নেতৃত্বে আসা এখনও সামাজিকভাবে কঠিন হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্র, যুব ও নারী সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ অনেক দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখেছে। কিন্তু যে দলই ক্ষমতায় বসেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার প্রদানের প্রসঙ্গে একই পলিসি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করেছে।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, জুম্মদের ভাগ্য বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর কিছুটা প্রত্যাশার সঞ্চার হলেও দিন শেষে কেউই উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের খোলস থেকে বের হতে পারেনি। তাই আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

কাউন্সিল শেষে শুভাশীষ চাকমা নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

কুবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মার সভাপতিত্বে এবং মংক্যএ মার্মা কাস্পিয়ান দেওয়ানের সঞ্চালনায় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক . মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলা বিভাগের অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান, আদিবাসী সাবেক শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মাসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইংরেজি বিভাগের জুই চাওলা বর্মন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক জীবনের পথ প্রদর্শক আমাদের সংগঠনের সিনিয়ররা। আপনাদের কাছ থেকেই শিখেছি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতার পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিকতার অর্থ। শিখেছি পাঠ্য বইয়ের বাহিরের যে বাস্তবিক শিক্ষা নেতৃত্বের গুণাবলী, সহপাঠীদের সঙ্গে দৃঢ় থাকার মানসিকতা। নবীনদের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা শুভকামনা।

অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমি ২০০২ সালে রাজশাহীতে পিএইচডি করা কালীন আদিবাসীদের জীবনধারা খুব কাছ থেকে দেখেছি, সেই কৌতুহলের জায়গা থেকে আমি আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কে একটা রিসার্চ পেপার দাড় করিয়েছিলাম। যা ছিল আমার জীবনের প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন। এটি জমার দেওয়ার একসপ্তাহ পরে এটি একটি জার্নালের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমার জীবনে লিখে প্রথম টাকা অর্জন সেটাও আদিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়াও আমি নয়টি প্রজেক্ট আদিবাসীদের নিয়ে করি এবং সরকারিভাবে আদিবাসীদের সম্পর্কে তিনটি বইও প্রকাশ করেছি।

আদীবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মা বলেন, ‘আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা এবং কথা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ধারণ করা এবং সেগুলোকে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।আমরা আশা করছি নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা থেকে আমাদের জাতি, এলাকা, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরার অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানের অতিথিদের ক্রেস্ট, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

© all rights reserved - Janajatir Kantho