ফিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফিচার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চাকমা, ম্রো, মারমা লিপি

 


ডিজিটাল মাধ্যমে নিজভাষার বর্ণমালা দিয়ে লিখতে পারবেন বাংলাদেশের চাকমা, মারমা ও ম্রো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। মোবাইলে ইউবোর্ড অ্যাপস ইনস্টল করে খুব সহজে লিখতে পারবেন বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায়ও।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী ভাষার ডিজিটাইজেশন কম্পোনেন্ট ইউবোর্ড ও ফন্ট শীর্ষক এক কর্মশালায় এ কথা জানান ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইবিএলআইসিটি। কর্মশালায় এর ব্যবহার শিখিয়ে দেন ইবিএলআইসিটি কর্মকর্তারা।

দেশের ভাষা গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক ইবিএলআইসিটি এই কর্মশালা আয়োজন করে। এতে দেখানো হয় খুব সহজে কীভাবে ইউবোর্ডের মাধ্যমে চাকমা, মারমা, ম্রোসহ দেশের ছয়টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভাষা লেখা যায়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের ভাষার বর্ণমালাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডেটা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে পারলে সেগুলোও ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিদ্যমান সব জনগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। এ সংরক্ষণকাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তখন গবেষণা ও উন্নয়নকাজ সহজতর হবে। এতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের ভাষা সংরক্ষণ করতে পারবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। যেসব জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ করতে চায়, তারা ইবিএলআইসিটির মাধ্যমে ভাষা উন্নয়ন করতে পারবে।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন ইবিএলআইসিটির প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব করিম, পরামর্শক মামুন অর রশীদ, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক জিতেন চাকমা, গবেষক প্রসন্ন কুমার চাকমা, মনোজ বাহাদুর গুর্খা।

জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ হেবাং এখন শেওড়াপাড়ায়

 


পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নারীদের দ্বারা পরিচালিত রেস্তোরাঁ হেবাং। পরিচিতি জনপ্রিয়তায় ইতোমধ্যেই আকাশ ছুঁয়েছে। রোস্তারাঁটির মোহাম্মদপুরের রিং রোড শাখার ঠিকানা অপরিবর্তিত থাকলেও কাজীপাড়ার হেবাং এসেছে শেওড়াপাড়ায়। এখানে খাবারের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা নতুন অনেক কিছু নিয়ে এসেছে। খাবারের পাশাপাশি পাহাড়ি জুমের চাল, চালের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়াসহ নানা খাদ্যপণ্য আর ঘর সাজানোর নানা পণ্যও আছে এখানে।

শেওড়াপাড়ার নতুন এ শাখা খোলা হয়েছে গত বছরের নভেম্বর মাসে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু কিছু কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তাতে অবশ্য এ রেস্তোরাঁ থেমে নেই। বরং খাবারের পাশাপাশি নতুন ‘অনেক কিছু’ নিয়ে এখন সচল শেওড়াপাড়ার হেবাং। 

নতুন শাখা নিয়ে রেস্তোরাঁটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিপলী চাকমা জানান, আগে শুধু খাবার ছিল। পাহাড়ের সেসব খাবার তো আছেই। এর পাশাপাশি এখন পাহাড়ের বিন্নি চাল, আটা, চালের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, নারকেল তেলসহ নানা খাদ্য উপাদান পাওয়া যাচ্ছে।

আরও আছে। পাহাড়ের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে এমন বুক মার্ক, পোশাক, ফ্রিজ ম্যাগনেট ইত্যাদি ঘর সাজানোর এমন নানা উপাদানও আছে। খেতে গিয়ে এসব জিনিসপত্র কিনতে পারবেন যে কেউ। বিপলী জানান, পাহাড়ি গয়নাসহ নান তৈজসও পাওয়া যাবে শিগগিরই।

শেওড়াপাড়ায় মেট্রোরেলের স্টেশন থেকে খানিকটা দূরে ৩১৮ নম্বর পিলারের কাছের দোতলায় নতুন হেবাং এর ঠিকানা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে হেবাং। যদি এ রেস্তোরাঁয় কেউ বিয়ে, জন্মদিন বা যেকোনো অনুষ্ঠান করতে চান, তারও ব্যবস্থা আছে।

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চা-বাগানের মনি মুন্ডা এখন গ্র্যাজুয়েট

 

বাবার সঙ্গে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা মনি মুন্ডা

সব বাধা পেরিয়ে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন চা-বাগানের মনি মুন্ডা। স্নাতক শেষ করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা-বাগানের মেয়ে মনি মুন্ডা। তিনি আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টেরঅদ্বিতীয়াবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানো পরিবারের প্রথম নারী, যাঁরা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারছেন না, তাঁদের অনুপ্রাণিত করার জন্য দেওয়া হয় আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টেরঅদ্বিতীয়াবৃত্তি। ২০২০ সালে এই শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া ১০ জনের সবাই মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ জেলার চা-শ্রমিকের সন্তান। তাদেরই একজন মনি মুন্ডা।

মনি মুন্ডা বলেন, ‘এই দিনটি শুধু একটি সনদ অর্জনের দিন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অগণিত পরিশ্রম, নির্ঘুম রাত আর অজস্র কান্না। চা-বাগান থেকে আজকের এই জায়গায় পৌঁছানোর পেছনে বাবা-মায়ের অক্লান্ত শ্রম ত্যাগ জড়িয়ে আছে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের পথে আজ আমি প্রথম ধাপটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই দিনটিতে মাকে ভীষণ মনে পড়ছিল-যিনি আমার জন্য কত রাত বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করে থেকেছেন, যখন আমি রাতে অনলাইন ক্লাস করতাম। আজ তিনি পাশে থাকলে নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের জন্য এমন একটি সুবর্ণ সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, আইডিএলসি প্রথম আলো ট্রাস্টকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) ১২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রাম নগরের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মেজবান হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫৩ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একজন হলেন মনি মুন্ডা।

জাকসু নির্বাচনে এক ভোটে পরাজয় ইগিমি চাকমার

 


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নাট্য সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন ইগিমি চাকমা। আর এই নির্বাচনে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

নির্বাচনে নাটক নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইগিমি চাকমা ১৯২৮ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, পদে ১৯২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. রুহুল ইসলাম। তিনিও নাটক নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী। রুহুল ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ইগিমি চাকমা ছাত্র ইউনিয়ন (অদ্রি-অর্ক), জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট সম্প্রীতির ঐক্যপ্যানেলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

বিষয়টি নিয়ে ইগিমি চাকমা এক ফেইসবুক পোস্টে জানান, ‘ভাগ্যের দরুণ মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জয় অর্জিত না হলেও আপনাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছি এটাই আমার ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘আগামী দিনে নতুন উদ্যম প্রত্যয়ে আমি আমার করণীয় নিয়ে আপনাদের সামনে ফিরব। আপনাদের আশির্বাদ, দোয়া ভালোবাসায় আমি যেন নিরন্তর আমার দায়িত্ব কাজগুলো করে যেতে পারি এই প্রার্থনা রইল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইগিমি চাকমা। ক্যাম্পাসে তাঁর অভিনয় নিয়ে খ্যাতি রয়েছে। ইগিমি মঞ্চে আরও নাটক করবে, মঞ্চ দাঁপিয়ে বেড়াবে এমনই প্রত্যাশা শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

মারমা নারীর উদ্যোগে কলাগাছের আঁশ দিয়ে তৈরী হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন

 


দেশের মাটিতে প্রথমবারের মত কলাগাছের আঁশ দিয়ে তৈরী হচ্ছে পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের সাবারাং রেস্তোরাঁ মাঠে এই পণ্যের প্রদর্শনী হয়েছে। আর এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন নাউপ্রু মারমা নামের একজন আদিবাসী নারী।

প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উইমেন্স এডুকেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট (ইউভ) নাউপ্রু মারমা (উইভ) এর নির্বাহী পরিচালক জেলা পরিষদের সদস্য।

রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ী এলাকায় ছোট পরিসরে শুরু হলেও এটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলাগাছের আঁশ শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির মাধ্যমে ন্যাপকিন তৈরি করা হচ্ছে। কাজে সহযোগিতা করছে আরএসএফ সোশ্যাল ফাইন্যান্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ গবেষণা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নারী কিশোরীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরিতে সফলতা পায় ইউভ। স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির মূল উদ্দেশ্য কম দামে পাহাড়ে নারী কিশোরীদের মাঝে পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়া।

ইউভের নির্বাহী পরিচালক জেলা পরিষদের সদস্য নাউপ্রু মারমা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী স্যানিটারি ন্যাপকিনের চাহিদা রয়েছে। ভারতে আহমেদাবাদে কলাগাছের আঁশ দিয়ে ন্যাপকিন তৈরির প্রযুক্তি দেখে এসেছি। পাহাড়ে কলাগাছ সহজলভ্য হওয়ায় এখানকার নারীরা উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত ন্যাপকিন পাবেন। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের নারী কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। বড় কোনো প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি নির্ভর সহায়তা দিলে দেশের বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন পাওয়ার পর এসব স্যানিটারি ন্যাপকিন বাজারজাত করা হবে।

© all rights reserved - Janajatir Kantho