কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মার সভাপতিত্বে এবং মংক্যএ মার্মা ও কাস্পিয়ান দেওয়ানের সঞ্চালনায় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান, আদিবাসী সাবেক শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মাসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইংরেজি বিভাগের জুই চাওলা বর্মন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক জীবনের পথ প্রদর্শক আমাদের সংগঠনের সিনিয়ররা। আপনাদের কাছ থেকেই শিখেছি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতার পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিকতার অর্থ। শিখেছি পাঠ্য বইয়ের বাহিরের যে বাস্তবিক শিক্ষা নেতৃত্বের গুণাবলী, সহপাঠীদের সঙ্গে দৃঢ় থাকার মানসিকতা। নবীনদের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।’
অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমি ২০০২ সালে রাজশাহীতে পিএইচডি করা কালীন আদিবাসীদের জীবনধারা খুব কাছ থেকে দেখেছি, সেই কৌতুহলের জায়গা থেকে আমি আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কে একটা রিসার্চ পেপার দাড় করিয়েছিলাম। যা ছিল আমার জীবনের প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন। এটি জমার দেওয়ার একসপ্তাহ পরে এটি একটি জার্নালের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমার জীবনে লিখে প্রথম টাকা অর্জন সেটাও আদিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়াও আমি নয়টি প্রজেক্ট আদিবাসীদের নিয়ে করি এবং সরকারিভাবে আদিবাসীদের সম্পর্কে তিনটি বইও প্রকাশ করেছি।’
আদীবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মা বলেন, ‘আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা এবং কথা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করা এবং সেগুলোকে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।আমরা আশা করছি নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা থেকে আমাদের জাতি, এলাকা, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরার অবদান রাখবে।’
অনুষ্ঠানের অতিথিদের ক্রেস্ট, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন