জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নির্বাচনে আদিবাসীদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমতলের জাতিগত পরিচয়হীন নাগরিক সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতারা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক . খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। সময় বক্তৃতা করেন আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা, লেখক সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক জনাব শামসুল হুদা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরো শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে উত্থাপিত দাবিতে বলা হয়, দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আবাসনসহ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সমতল পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী সকল আদিবাসী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

রাজনৈতিক দল আগামী সরকারের কাছে উত্থাপিত প্রত্যাশায় বলা হয়, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিকীকরণ স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করতে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যথাযথ ক্ষমতায়ন করতে হবে।

পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে। অভ্যন্তবীণ উদ্বাস্তু ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাঁদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাহাড়িদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে সমতলেরর আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

মূল বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশে প্রায় ৫৪টির বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার বড় একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় অঞ্চলে এখনো অস্থিরতা প্রান্তিকতা রয়ে গেছে।

ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তিকে অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান

 


জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। এ জন্য জাতীয় রাজনৈতিক দলসমূহকে চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংগঠনটির তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও খায়রুল ইসলাম চৌধুরী চিঠিতে সই করেছেন। এতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ পাঁচ দফা দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিটি ইতোমধ্যে বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি, জামায়াত সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলসমূহকে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী–অধ্যুষিত বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি অঞ্চল। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে। তারা নিজস্ব শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়া থেকেও বঞ্চিত হয়ে আছে।

আরও বলা হয়েছে, এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি সই হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য সমস্যার সমাধানও হয়নি। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সংহত ও সম্পূর্ণ করার জন্য এক ‘সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছে’ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আরও অধিক গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে।’

 

‘গত একবছরে দেশের আদিবাসীদের ওপর ৯৭টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত’

 


বিগত একবছরে (২০২৪) বাংলাদেশের আদিবাসীদের ওপর মোট ৯৭টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে ভূমিকেন্দ্রিক ঘটনা ঘটেছে ১৮টি, যার মধ্যে সমতলে ৪টি পাহাড়ে ১৪টি এবং মোট হাজার জন এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেবাংলাদেশের আদিবাসীদের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতিশীর্ষক জাতীয় পর্যায়ে এক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়। রোববার, (০৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আসাদগেটের ওয়াইডব্লিউসিএ ভবনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে সংগঠনটির প্রজেক্ট অফিসার ত্রিজিনাদ চাকমা জানান, পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই ২০২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী ১৫টি ভূমিকেন্দ্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ৩৪টি রাজনৈতিক নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যেখানে মোট ৩৬৮ জন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।

কাপেং ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অফিসার হ্লারাচিং চৌধুরীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারপারসন গৌরাঙ্গ পাত্র।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা বলেন, কাপেং ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ধরনের কর্মশালার আয়োজন করে থাকে।

কর্মশালায় ফ্রান্স দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কো-অপারেশন বিভাগের এমিলি পালাউন বলেছেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী আদিবাসীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। তারা তাদের ভূমি, সংস্কৃতি আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভূমি, শিক্ষা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষভাবে সমস্যার শিকার আদিবাসী নারীরা।

কর্মশালায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্র আদিবাসী শব্দটি বলতে চায় না। কেননা আদিবাসী বললে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা করতে হবে। যদি সংবিধানে আদিবাসী স্বীকৃতি এবং আইএলও ১৬৯ অনুস্বাক্ষর করা হয়, তবু আদিবাসীদের অধিকার অর্জিত হবে না। কারণ, আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত আসবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আশা ছিল যে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের আদিবাসী মানুষেরা আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু আমরা সেদিকে যেতে পারিনি। সাম্য মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশের স্বপ্ন বিনির্মাণ করা যায়নি। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতন্ত্র থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক পার্থ শঙ্কর সাহা। অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, জয়েনশাহি আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের ইউজিন নকরেক, কুবরাজ ইন্টার-পুঞ্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং, সিএইচটি জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সন্তশিতো চাকমা বকুল, নমিতা চাকমা প্রমুখ।

© all rights reserved - Janajatir Kantho