সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মধুপুরে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গারো বইমেলা

 


টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বই হোক আত্মবিকাশের মূলমন্ত্র’ স্লোগানকে ধারণ করে শুরু হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গারো বইমেলা। আগামী ৩১ জানুয়ারি শালবনের ছিমছাম পীরগাছা সেন্ট পৌলস হাইস্কুল মাঠে মেলার উদ্বোধন হবার কথা রয়েছে। মেলা চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  

এ মেলার আয়োজক থকবিরিম প্রকাশনী। জানা গেছে, গারো সাহিত্যকে ঘিরে শুরু হতে যাওয়া এক সপ্তাহের এই সাহিত্য-সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় দেশের নানাপ্রান্ত থেকে কবি-সাহিত্যানুরাগীরা অংশ নেবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে ঐতিহ্যবাহী চাম্বিল মেসা, আজিয়া, রেরে, সেরেনজিং, নাংগরে রে, গারো লোককাহিনী পাঠ, গারো ভাষায় কবিতা ও ছড়া পাঠের আয়োজন।

এছাড়াও পরিবেশিত হবে ঐতিহ্যবাহী গারো নৃত্য। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বইমেলায় নতুন প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

থকবিরিম প্রকাশনীর কর্ণধার কবি মিঠুন রাকসাম জনজাতির কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। বইমেলার বার্তা পৌঁছে দিতে মধুপুরের গ্রামে গ্রামে গারো ও বাংলা ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে। এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বেশ সাড়া দিচ্ছেন। বইয়ের পাতায় গারো জীবনের গল্প খুঁজতে সবাইকে মেলায় আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

শুরু হয়েছে সাঁওতালদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব সহরায়

 


সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব সহরায় শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট এলাকায় দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবের সূচনা হয়, যা আগামী শনিবার সমাপ্ত হবে।

সাঁওতালি সারি ধর্মের প্রাচীন রীতিনীতি অনুসরণে রাজাবিরাট মানঝিহি পরিষদ এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে স্থানীয় সারি ধর্মের শত শত অনুসারী অংশ নিচ্ছেন। আদি কাল থেকে চলে আসা এইসহরায়উৎসব সাঁওতাল জাতিসত্তার অন্যতম বৃহৎ তাৎপর্যপূর্ণ কৃষিভিত্তিক উৎসব হিসেবে পরিচিত।

উৎসবের শুরুতে সাঁওতালি আদি ধর্ম সংস্কৃতি বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিত বিমল মুরমু আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন। সময় মানঝিহি বা গ্রামপ্রধান বিটিশ সরেণ, সাঁওতাল আদি ধর্ম ভাষা সংস্কৃতি সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ সরেণ, মানঝিহি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাখন মার্ডি, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধার আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী গবেষক মনির হোসেন, গাইবান্ধা জলবায়ু পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী প্রামানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সহরায় উৎসব কার্তিক মাসে হয়ে থাকে। তবে ভারতের কিছু অঞ্চল ও বাংলাদেশের সাঁওতালরা পৌষ মাসে ধান তোলা শেষ করার পর সহরায় পালন করে। সহরায় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী কয়েকটি পর্বে পালিত হয়। পর্বগুলা হল উম মাহা, গট বঙ্গা, বঙ্গা মাহা, খুন্টৗউ মাহা, জালে মাহা।

সহরায় উৎসবের মধ্য দিয়ে কৃষি সরঞ্জাম ও গাবাদিপশুর সাথে সাঁওতালদের গভীর সম্পর্কের বিষয় উঠে আসে। এতে নতুন ফসল ঘরে তোলা, গবাদিপশু ও ধনসম্পদের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উৎসবে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে ঢোল-মাদলের তালে নেচে-গেয়ে প্রকৃতি ও দেবতার কাছে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন, যা সাওতাঁল সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলার আয়োজন

 


ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলার উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুরস্থ পার্বত্য বৌদ্ধ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদবৃন্দ এ মেলার আয়োজন করেছে।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস এবং আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা। আয়োজনের উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সদস্য মেজর (অব) তপন বিকাশ চাকমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, একটা দেশে যত বৈচিত্র্য থাকে সেই দেশ ততটাই সুন্দর। এই দেশে যদি কেবল একটি জনগোষ্ঠী থাকতো তখন এতটা সুন্দর লাগতো না।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ী খাবার গ্রহণ করা এখন একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। মানুষ পাহাড়ী খাবার খেতে চায় ট্রেন্ড হিসেবে, ঐতিহ্যর অংশ হিসেবে না। কিন্তু এটিকে একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ঐতিহ্যর অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। গণমানুষের কাছে নিরাপদ খাবার পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যকর আদিবাসী খাবারগুলোকে আরো বেশী প্রচার ও প্রসার করতে হবে।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, শুধুমাত্র আদিবাসীদের খাদ্যভ্যাসের চাকচিক্য দেখলে হবে না, তাদের জন্য ন্যায্য খাদ্য বন্টন করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যমুক্ত, জাতিনিরপেক্ষ, ভাষানিরপেক্ষ সর্বোপরি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, এ মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সবার কাছে আদিবাসীদের অর্গানিক খাদ্যগুলোর পরিচয় করিয়ে দেওয়া। প্রচার বাড়লে, বাজারে এগুলোর প্রচলন বাড়বে। তখন উৎপাদনও বাড়বে।

আলোচনা সভা শেষে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সদস্য মেজর (অব) তপন বিকাশ চাকমা বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

মেলায় মারমা ও রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী মুন্ডি, গারো ও চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠা, পাজনসহ বিভিন্ন ধরণের মুখরোচক খাবার এবং কলা, বেগুন, মরিচ, পাহাড়ী আলুসহ বিভিন্ন ধরণের কৃষিজ পণ্যর সমাহার বসেছে। দুইদিনব্যাপী (শুক্রবার ও শনিবার) চলা এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।

মাহালি ভাষায় প্রথম বই প্রকাশ করলো আইইউবি

 


মাহালি ভাষায় প্রথমবারের মত প্রকাশিত হল বই। বইটির নাম মাহালি ভয়েসেস। গতকাল বুধবার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আইইউবির উদ্যোগে প্রকাশিত বইটিতে ৩০টি লোককাহিনি, ২৪টি কবিতা বাংলা, ইংরেজি রোমান অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়েছে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মাহালি ভাষা রক্ষার দাবি জানান মাহালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো গ্লোবাল টাস্কফোর্স সদস্য সমর সরেন বলেন, বইপত্রে আমরা ভাষাগুলোকে যেভাবে টেকাতে পারি এর চাইতে বেশি ভাষা সংরক্ষণ করে আদিবাসীদের জলাশয় গাছ। একটি জলাশয় সে সমস্ত কমিউনিটির একটি ইউনিভার্সিটি। কারণ সেই জলাশয়ে যে গাছগুলো হয়, সেখানে তাদের ভাষায় বিভিন্ন গাছের নাম থাকে। পাখির নাম থাকে। সেই ভাষাতেই তাদের নলেজ ট্রান্সফরমেশন হয়।

মাহালি ভাষার কবি সিষ্টি টুডু বলেন, ভাষাটি পুঁথিগত; ধরে রাখার যে ব্যবস্থা করেছেন তার জন্য আমি অন্তর থেকে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

গবেষকরা বলেন, মাহালি ভাষার নিজস্ব কোনো লিপি বা বর্ণমালা নেই। তাই রোমান অক্ষরে মাহালি ভাষার গল্প কবিতা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ইংরেজি ভাষায় সংকলিত হয়েছে।

আইইউবির স্কুল অব লিবারাল আর্টস অ্যান্ড সোশাল সায়েন্সের ডিন . বখতিয়ার আহমেদ বলেন, যে ভাষাগুলি বিপদাপন্ন, যে ভাষাগুলির অস্তিত্বগত সংকট আছে সেগুলোর সাহিত্য, তার ভাষা ভাষার যে নথিকরণ; এই সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে আসলে ভাষাটাকে বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি যোগানোর জন্য এই বই।

মুন্ডা জনজাতির অন্তর্গত মাহালি জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষাও মাহালি। চাকরি, পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগের সুবিধা সহ নানা কারণে  জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষা এখন ঝুঁকিতে। চর্চার অভাবে বিলুপ্তির মুখে মাহালে ভাষা। তাই এই ভাষার রক্ষায় সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ গবেষকদের।   

গারো ভাষায় গল্প বলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেন যারা



গারো ভাষায় গল্প বলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঢাকা ওয়ানগালা আয়োজনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অসংখ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩ জন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন

গারো জাতিসত্তার লোককাহিনী, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাণবন্ত করে তুলতে AMBI-ATCHUNI KU'RANG শিরোনামে কালচারাল সারভাইভালের সহায়তায় ঢাকা ওয়ানগালা এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

এতে (প্রাইমারি) ক্যাটাগরিতে ম্যাক্সওয়েল নকরেক চ্যাম্পিয়ন হন। তাঁর গল্পের শিরোনাম টটেং। এছাড়াও প্রথম রানারআপ হন প্রাচ্য নকরেক (Kangining Dokru aroba Adasani golpo) ও দ্বিতীয় রানারআপ রুদ্র মারাক (Matcha aro rakkuwal)

বি ক্যাটাগরিতে (হাইস্কুল) চ্যাম্পিয়ন হন ঐশ্বরিয়া নকরেক। তাঁর গল্পের শিরোনাম Raani ni Sak'gittam Depaanthe thikana. এছাড়াও একই ক্যাটাগরিতে প্রথম রানারআপ সেংরাক দারু (Mangsinani Achiani Golpo), দ্বিতীয় রানারআপ সিলভিয়া নকরেক (Noshi dumsi anal gunal), তৃতীয় রানারআপ এস্টার চিসিম (Matchadu-Matchabet), চতুর্থ রানারআপ বঞ্চি মৃ (Mikkol)।

সি ক্যাটাগরিতে (জেনারেল) চ্যাম্পিয়ন হন জাদ্রি মানখিন। তাঁর গল্পের নাম মিদ্দাই থাৎতা। একই ক্যাটাগরিতে প্রথম রানারআপ হন এস্টিয়ার স্টিফেন মৃ (Megam Gairipa), দ্বিতীয় রানারআপ শ্রেয়া চিসিম (Matchadu-Matchabet – Folk), তৃতীয় রানারআপ রানিয়া সাংমা (Sangma Marak Susani), চতুর্থ রানারআপ প্রত্যয় নাফাক (Matchadu Matchabet)।  

ঢাকা ওয়ানগালার নকমা সঞ্চয় নাফাক, যুগ্ম কর কমিশনার কর্ণেলিউস কামা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর দীপংকর রিছিল, সাবেক নকমা অন্তর মানখিন, অর্পিত দাংগ, কারিতাস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর অপূর্ব ম্রং প্রমুখ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। 

© all rights reserved - Janajatir Kantho