আঞ্চলিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আঞ্চলিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল আদিবাসী যুবকের

 


খাগড়াছড়ির গুইমারায় যাত্রীবাসী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জয় ত্রিপুরা (২৫) নামের একজন আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বাইল্যাছড়ি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জয় ত্রিপুরা গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের পঙ্খীমুড়া এলাকার বাসিন্দা কৃপাচার্য ত্রিপুরার ছেলে। একই মোটরসাইকেলে থাকা হনেসা ত্রিপুরা (১৯) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার মনোহরি ত্রিপুরার ছেলে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা খাগড়াছড়িগামী শান্তি পরিবহন বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল চালক কুবেন জয় ত্রিপুরা বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহত যুবককে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঘটনার পর শান্তি পরিবহনের চালক ও সহকারী পলাতক। বাসটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

বেতকুড়িতে চারদিনব্যাপী জিবিসির বড়সভা শুরু

 


ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গারো ব্যাপ্টিষ্ট কনভেনশনের (জিবিসি) ১৩৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে উপজেলার বেতকুড়ি বৈথেল হোম মিশন প্রাঙ্গণে এ সভা শুরু হয়।

সভার উদ্বোধন ঘোষণা করেন জিবিসির প্রেসিডেন্ট বরুণ কুমার দারিং। এরআগে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দকমান্দা দোমি পরিধান করে শিল্পীরা উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন।

এবারের বড়সভার মূলসুর ‘প্রেমই শ্রেষ্ঠ’। মূলবচন ‘তোমার সমস্ত অন্তকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করিবে, এইটি মহৎ ও প্রথম আজ্ঞা। আর দ্বিতীয়টি ইহার তুল্য; ‘তোমার প্রতিবেশীকে আপনার মত প্রেম করিবে’।

সভার প্রধান বক্তা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এস এন্ড ডি রেভারেন্ড ম্যাকডোনাল্ড মুনিয়া অধিকারী।

জিবিসির বার্ষিক এ সাধারণ সভা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চারদিনের সম্মেলনে বেশ কয়েকটি সেশন পরিচালনা হবে। সাধারণ সভা ছাড়াও থাকছে ভলিবল, সিইএস, উইমেন সোসাইটি, বিভাগ ভিত্তিক সংকীর্তন প্রতিযোগিতা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিবিসির সেক্রেটারি জেনারেল পাস্টার সুরঞ্জন ডিব্রা, ফাইনান্স ডিরেক্টর পাস্টার তড়িৎ মানখিন, মিশন বোর্ডের ডিরেক্টর রেভারেন্ড মধুনাথ সাংমা, এডুকেশন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ডিকন বিহার জাম্বিল, সিইএস এর প্রেসিডেন্ট ডিকন অনির্বান চাম্বুগং প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গলে আদিবাসীদের পৈতৃক ভূমিতে হামলা, জবরদখলের চেষ্টা

 

প্রথম ম্রো নারী শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাবিতে চান্স পেলেন ইয়াপাও ম্রো

 


বলা হয়ে থাকে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সব জয় করা সম্ভব। ঠিক তেমনি শত প্রতিকূলতা, প্রান্তিকতা, বঞ্চনা ও দুর্গমতা সত্ত্বেও মেধা পরিশ্রমের সমন্বয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন ইয়াপাও ম্রো। এর মাধ্যমে তিনি রীতিমত ইতিহাস গড়েছেন। ইয়াপাও ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রথম নারী শিক্ষার্থী যিনি ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন।  

বান্দরবানের থানছি উপজেলার ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ইয়াপাও ম্রো। তিনি এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১১২৫তম স্থান অর্জন করেছেন।

ইয়াপাও ম্রোর এই সাফল্যে তাঁর এলাকা ও আদিবাসী কমিউনিটির মধ্যে আনন্দ বইছে। অনেকে বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে উঠে আসা ইয়াপাও এর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি তাঁর পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। যেখানে এখনো মানসম্মত শিক্ষা ও অবকাঠামোর সুযোগ সীমিত, সেখানে তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে—সংগ্রাম আর সুযোগ এক হলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।

অভিনন্দন জানিয়ে ধর্মরাজ নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ম্রো জনগোষ্ঠী থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সু্যোগ পাওয়া প্রথম নারী শিক্ষার্থী! এগিয়ে যাক প্লুং এর ভবিষ্যতেরা।

শিক্ষানুরাগীরা বলছেন, ইয়াপাও ম্রো’র এই সাফল্য অন্যান্য নারী ম্রো শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দাবিতে আদিবাসীকে শিকলে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন

 


চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শিকলে বেঁধে তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গেগেনার ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি ঘর থেকে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

গেগেনার ত্রিপুরা বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার জৈতুনপাড়া এলাকার লাফেহা ত্রিপুরার ছেলে। তিন কন্যাসন্তানের জনক তিনি। নগরীতে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান; এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার স্ত্রী একজন পোশাক শ্রমিক।

ভুক্তভোগী গেগেনার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, গত ১৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সিএনজি টেক্সিতে করে তাকে বোয়ালখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ঘরে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, আক্রমণকারীরা সামান্য পানি দিত; বেশি পানি চাইলে প্রস্রাব খাওয়ানোর চেষ্টা করা হতো। চিৎকার করতে না পারার জন্য তার মুখে টেপ লাগানো হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, নগরীতে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় আব্দুল করিম ইমন নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিন মাস আগে ইমনের মোবাইলে গান শোনার সময় এক ব্যক্তি জরুরি কল করার কথা বলে মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছিল ইমন ও তার সহযোগীরা।

গেগেনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি রিকশা চালানোর সময় ১০১২ জন যুবক তাকে মারধর করে চোখ বেঁধে সিএনজিতে তুলে নেন। পরে মোবাইলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণ হিসেবে আরও ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

স্বামীকে মুক্ত করতে গেগেনারের স্ত্রী ধারদেনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুফিয়ান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, গেগেনারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুস্তম মাঝি বাড়ির মৃত আবদুল কুদ্দুছের ছেলে আব্দুল করিম (২৭) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী বাড়ির মৃত আবুল কাসেমের ছেলে মো. মঈন উদ্দিনকে (২৬) আটক করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, এই দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রঁদেভূর নতুন সভাপতি জাল্লাং কুবি, সম্পাদক শ্রেয়া তালুকদার

 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর অষ্টম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার চবি ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল পুকুর পাড়ে সংগঠনটির বার্ষিক মিলনমেলা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাল্লাং এনরিকো কুবি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়া তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ক্যাপ্রিও চাকমা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ণ ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাঞ্চন চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হ্লুবাইশু চৌধুরী প্রমুখ।

ড. কাঞ্চন চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ভূমিকা রেখে আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষার্থী সমাজের কাছে নিজ নিজ ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে দিচ্ছে যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিজেদের সংগঠনের জন্য নিজেদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন বলেন, নিজের সংস্কৃতিকে চর্চার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য রঁদেভূর মতো সংগঠন প্রাসঙ্গিক। রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীকে কাজ করার মাধ্যমে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো, চাক স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মংক্যউ চাক, নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সহ-সভাপতি পারমিতা চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুসান্না টুডু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পিসিপি রাবির নতুন সভাপতি উজানী চাকমা, সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা

 

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে উজানী চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামীন ত্রিপুরা নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া হলরুমে সংগঠনটির রাবি শাখার অষ্টম কাউন্সিলে তারা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিলে সংগঠনটির সদ্যবিদায়ী সভাপতি সমু চাকমা সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুপসী চাকমা বলেন, নারীদের নেতৃত্বে আসা এখনও সামাজিকভাবে কঠিন হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্র, যুব ও নারী সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ অনেক দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখেছে। কিন্তু যে দলই ক্ষমতায় বসেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার প্রদানের প্রসঙ্গে একই পলিসি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করেছে।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, জুম্মদের ভাগ্য বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর কিছুটা প্রত্যাশার সঞ্চার হলেও দিন শেষে কেউই উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের খোলস থেকে বের হতে পারেনি। তাই আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

কাউন্সিল শেষে শুভাশীষ চাকমা নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

কুবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মার সভাপতিত্বে এবং মংক্যএ মার্মা কাস্পিয়ান দেওয়ানের সঞ্চালনায় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক . মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলা বিভাগের অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান, আদিবাসী সাবেক শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মাসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইংরেজি বিভাগের জুই চাওলা বর্মন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক জীবনের পথ প্রদর্শক আমাদের সংগঠনের সিনিয়ররা। আপনাদের কাছ থেকেই শিখেছি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতার পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিকতার অর্থ। শিখেছি পাঠ্য বইয়ের বাহিরের যে বাস্তবিক শিক্ষা নেতৃত্বের গুণাবলী, সহপাঠীদের সঙ্গে দৃঢ় থাকার মানসিকতা। নবীনদের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা শুভকামনা।

অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমি ২০০২ সালে রাজশাহীতে পিএইচডি করা কালীন আদিবাসীদের জীবনধারা খুব কাছ থেকে দেখেছি, সেই কৌতুহলের জায়গা থেকে আমি আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কে একটা রিসার্চ পেপার দাড় করিয়েছিলাম। যা ছিল আমার জীবনের প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন। এটি জমার দেওয়ার একসপ্তাহ পরে এটি একটি জার্নালের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমার জীবনে লিখে প্রথম টাকা অর্জন সেটাও আদিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়াও আমি নয়টি প্রজেক্ট আদিবাসীদের নিয়ে করি এবং সরকারিভাবে আদিবাসীদের সম্পর্কে তিনটি বইও প্রকাশ করেছি।

আদীবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মা বলেন, ‘আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা এবং কথা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ধারণ করা এবং সেগুলোকে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।আমরা আশা করছি নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা থেকে আমাদের জাতি, এলাকা, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরার অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানের অতিথিদের ক্রেস্ট, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

আদিবাসী নেতা ঢুডু সরেন হত্যা মামলায় সব আসামির বেকসুর খালাস, ছেলে বললেন ‘আমরা কি বিচার পাবো না’

 


দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের বহুল আলোচিত আদিবাসী নেতা ঢুডু সরেন হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়ে সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের বড় কচুয়া গ্রামের ঢুডু সরেনের ছেলে রবি সরেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সময় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০১৪ সালের আগস্ট উপজেলার হিলির ডাঙ্গাবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আদিবাসী নেতা ঢুডু সরেনকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় ছেলে রবি সরেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় প্রভাবশালী আবদুল গোফফার তার পরিবারের আট জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আদিবাসী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে ওই সময় মামলার প্রধান আসামি আবদুল গোফফারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে রবি সরেন বলেন, ‘উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের বড় কচুয়া গ্রাম, পরে যা ঢুডুর মোড় নামে খ্যাতি পায়, সেখানে বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই সময়ে পত্র-পত্রিকায় হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ হয়েছিল। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায় হয়েছে গত ১১ নভেম্বর। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, হত্যা মামলার সব আসামি বেকসুর খালাস পেলো। এই রায়ের মধ্য দিয়ে শুধু আমার পরিবার নয়, পুরো সাঁওতাল সম্প্রদায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অপরাধীদের আরও বেশি উৎসাহিত করা হলো।

রবি সরেন জানান, ঢুডু সরেনের পূর্বপুরুষদের মোট সম্পত্তি ৩৩ একর ১১ শতক। এই সম্পত্তি দখলের জন্য ঢুডু সরেনের বাবা ফাগু সরেনকে হত্যা করে সম্পত্তি দখল করে ভূমিদস্যু মহির উদ্দিন, গোলাজার হোসেন, হাজের উদ্দিন সরকার, ওমর আলী, তোফাজ্জল হোসেন মোজাম্মেল হক। ২০১১ সালের ২৮ জুলাই ঢুডু সরেনের বড় ভাই গোসাই সরেনকে হত্যা করা হয়েছিল। পরে টাকার অভাবে মামলা চালাতে না পারায় মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। হত্যাকারীরা যথারীতি পার পেয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে ঢুডু সরেনকে হত্যা করে ডা. আবদুল গোফফার, যিনি ফাগু সরেনের হত্যাকারী গোলজার হোসেনের ছেলে।

রবি সরেন বলেন, ‘হত্যা মামলার আসামি আবদুল গোফফার, আজহার আলী, দেলোয়ার হোসেন, আবদুল আলিম, সুজন আলী, স্বপন আলী সুমন ওরফে ছিব্বির আলীকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। কোনও অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় আর আক্রান্তরা আরও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে থাকে। নওগাঁর আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার হয়নি, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার হয়নি। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাঁওতাল হত্যারও বিচার মেলেনি। আজ যখন এই হত্যাকারীরা খালাস পেলো তখন ঢুডু সরেনের পরিবারের সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত আছে। অন্যদিকে ঢুডু সরেনের পৈতৃক সম্পত্তির ৩০ একর ৩৬ শতক যারা দখল করেছে মহির গং তাদের বিরুদ্ধে যে সিভিল মামলা চলছে, সেটা নিয়েও নানা হুমকিতে আছি আমরা। দুই প্রজন্মের হত্যা হয়ে যাওয়া এবং অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে আমাদের। আমরা কী তাহলে বিচার পাবো না।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি শিবানী উড়াও, বাসদের জেলা সমন্বয়ক কিবরিয়া হোসেন, ঢুডু সরেনের ছেলে মিলন সরেন, ভাতিজা সুখলাল সরেন, স্ত্রী ফুলমনি মার্ডি, আত্মীয় মঙ্গল মার্ডি উপস্থিত ছিলেন।

© all rights reserved - Janajatir Kantho