রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 


জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রয়াত সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বারকোনা গ্রামে নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

আজ প্রয়াণের দুই বছর পূর্তিতে রবীন্দ্রনাথ সরেনের বন্ধু-স্বজন অধিকারকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে স্বরণ সভার আয়োজন করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ।

আদিবাসী অধিকারকর্মী হিরন চাকমা ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘আদিবাসী, কৃষক ও মেহনতি মানুষের নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেন এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর ত্যাগ এবং নেতৃত্ব আমাদের কাছে সর্বদা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’  

রবীন্দ্রনাথ সরেন কৃষিকাজের পাশাপাশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালে নওগাঁর আঘোর নিয়ামতপুরে প্রথম সিধু-কানু চাঁদ ভৈরব স্মৃতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই অঞ্চলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সংগ্রামগাঁথা তুলে ধরেন। ১৯৯৬ সালে নওগাঁর মহাদেবপুরের নাটশালে তিনিই প্রথম কারাম উৎসব শুরু করেন, যা পরবর্তী সময়ে সব আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে তিনি জাতীয় আদিবাসী পরিষদ গঠন করেন। তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার তেভাগা চত্বরে সিধু–কানুর ম্যুরাল নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালে আলফ্রেড সরেন হত্যার প্রতিবাদে তিনি আন্দোলন করেছিলেন। ফুলবাড়ি কয়লা খনিবিরোধী আন্দোলনে তিনি ভূমিকা রাখেন। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনে তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন খাগড়াছড়ির দুই আদিবাসী প্রার্থী

 


নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনা রতন চাকমা গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী দীনময় রোয়াজা। সোমবার দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে দুই প্রার্থী নিশ্চিত করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনা রতন চাকমা জানান, ‘এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় কয়েকজন ভোটারের নম্বর অসম্পূর্ণ থাকায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে কমিশন আমার মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে। শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়া খুব কঠিন কাজ। সামান্য ভুলের জন্য নির্বাচন কমিশন আসা অত্যন্ত ভোগান্তির। সময় সামান্য ক্রুটি জেলা নির্বাচন অফিস সমাধান করতে পারে। এটার জন্য ঢাকা পর্যন্ত আসা কষ্টদায়ক। শতাংশ ভোাটারের স্বাক্ষর নেওয়ার বিধান বাতিল করা উচিত বলে মনে করি।

গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী দীনময় রোয়াজা বলেন, ‘আমার ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত খুব ছোট্ট একটা সমস্যা ছিল। সেটার জন্য আমাকে আপিল করতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আমি জমা দিয়েছি। ইসি আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে।

গত জানুয়ারি শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।

বাতিল হওয়া বাকি সাত প্রার্থী হলেনবাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী, গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তাফা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সন্তোষিত চাকমা, লাব্রিচাই মারমা জিরুনা ত্রিপুরা।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র তিন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এক শতাংশ সমর্থক না থাকায় এবং অন্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ফলে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর মো. এয়াকুব আলী, জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা, ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশোপ্রু মারমার পাশাপাশি মনোনয়ন বৈধ হওয়া দুই প্রার্থীও নির্বাচনী লড়াইয়ে সামিল হবেন।  

আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি নকুল, সাধারণ সম্পাদক সাবিত্রী

 


আদিবাসী যুব পরিষদের দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁ জেলার প্যারিমোহন লাইব্রেরিতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক নকুল পাহানের সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান।

এসময় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুরমু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি আশিক বানিয়াস, নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি রঘুনাথ এক্কা, সাধারণ সম্পাদক প্রতাব সিং, নওগাঁ জেলা সভাপতি মার্টিন মুরমু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে নকুল পাহানকে সভাপতি, সাবিত্রী হেমব্রমকে সাধারণ সম্পাদক ও নিপেন চন্দ্র উরাওকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির মেয়াদ তিন বছর।

কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের ২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

 


গাজীপুরে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার নৌলাপাড়ার জেসন গেট এলাকায় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফুল দিয়ে তাদের বিএনপিতে স্বাগত জানান। বাংলাদেশ প্রতিদিন এর খবর। 

আদিবাসী নেতৃবৃন্দের বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রূপচান বর্মণ সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হীড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন রিজভী, ফজলুল হক মুসল্লী, আদিবাসী নেতা অবিনেষ চন্দ্র বর্মণ, নারায়ণ চন্দ্র বর্মণ, সুভাস চন্দ্র বর্মণ, সম্মিলিত আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কোচ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আগামী সরকার যদি বিএনপি গঠন করে, তাহলে বিএনপি সরকারই হবে আপনাদের জন্য নিরাপদ। বিএনপি এমন একটি দল যেখানে সবাই থাকতে পারে। হিন্দু থাকতে পারে, মুসলমান থাকতে পারে, খ্রিষ্টান থাকতে পারে, বৌদ্ধ থাকতে পারে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশী। সবার নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমরা চাই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ। যে দেশে আইনের শাসন থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে এবং মানুষের সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

 

 

© all rights reserved - Janajatir Kantho