অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আদিবাসী নারী উদ্যোক্তা ফেন্সি সুমের তৈরী করেছেন ৭০ জনের কর্মসংস্থান

 


ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের। একজন সফল আদিবাসী নারী উদ্যোক্তা। তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠা ‘ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস’ আজ বাংলাদেশের স্কিন কেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি আস্থার নাম। অনলাইনভিত্তিক ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু করে এক যুগের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন একটি রেপুটেড কোম্পানি ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

ফেন্সি সুমের এখন শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, বরং লাখো নারীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস অনলাইনে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে অফলাইন কার্যক্রমও জোরদার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ছয়টি আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি সেবা দেওয়া হচ্ছে। পণ্যের মান ও ত্বকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস তাদের পণ্য সংগ্রহ করে থাকে। চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, জাপান ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি পণ্য ইমপোর্ট করে বাজারজাত করা হয়।

ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমেরের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথ সহজ ছিল না। সিলেটের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাসিয়া জনগোষ্ঠীর এই নারী ভাষাগত চ্যালেঞ্জসহ নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজ নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার স্পষ্ট ভাষা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপন ও আন্তরিক ব্যবহারের কারণে গ্রাহকদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের দৃঢ় বন্ধন।

আদিবাসী ও পাহাড়ি অঞ্চলের গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে শোরুম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পার্বত্য চট্টগ্রামেও রয়েছে তাদের আউটলেট। ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ নিজ জেলা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় নতুন শোরুম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা।

স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি নারীদের জন্য প্রিমিয়াম ক্লোথিং ব্র্যান্ড ‘ফেন্সি আইকনিক চালু করেছেন তিনি। নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি এই ব্র্যান্ডের পোশাক অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

বর্তমানে ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টসের মাধ্যমে প্রায় ৭০ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখছে। একজন আদিবাসী সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের কথা ভাবেন এবং তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক পেলেন প্রকৌশলী সবুজ চাকমা

 


রাঙামাটিতে কমিউনিটিভিত্তিক পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করার জন্যদ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৪পেলেন প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। শনিবার (৩০ আগস্ট) বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এই সম্মাননা অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে, সহযোগিতায় পরিবেশবাদী সংগঠনতরুপল্লব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, তরুপল্লব-এর সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিইও (কারেন্ট চার্জ) তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ছাড়াও আরো তিনজন এই সম্মাননা লাভ করেন। তারা হলেন- মিজানুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম প্রজেক্ট সোনাপাহাড়।

সবুজ চাকমা দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি পাখিবান্ধব চারা বিতরণ করেছেন এবং সড়কের পাশে হাজারো বৃক্ষরোপণ করেছেন। সওজ লেক ভিউ গার্ডেনসহ একাধিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগও তার।

খ্যাতনামা প্রকৃতিবিদ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা, যার জীবন কাজ অসংখ্য মানুষকে প্রকৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তার স্মৃতিতে সম্মান জানিয়ে এই পদক চালু করা হয়েছে। 

জিআই স্বীকৃতি পেল মণিপুরী শাড়ি

 


ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে মণিপুরী শাড়ি। গত ৩০ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন জেলার ২৪টি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মধ্যে মণিপুরী শাড়ি জিআই স্বীকৃতি লাভ করে। স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে মণিপুরী তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত প্রত্যেকেই উচ্ছ্বসিত।

জানা গেছে, সিলেটের মণিপুরী তাঁতের শাড়ি এবং মণিপুরী জনজাতির ইতিহাস আমাদের দেশে প্রায় ৩শ বছরের অধিক পুরনো। মণিপুরীরা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাপড়, শাড়ি, গামছা, শাল, বিছানার চাদর ফানেক, লাহিঙ, ওড়নাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাপড় নিজেদের জন্য বুনন করে আসছেন।

সাধারণত উজ্জ্বল রঙের দেশীয় সুতায় তৈরি হয় মণিপুরী শাড়ি। এক রঙের, এক থেকে দুই ইঞ্চি হয়ে থাকে শাড়ির পাড়ের চওড়া। পাড়ের রং প্রায় শাড়ির রঙের বিপরীত হতে দেখা যায়। আঁচল, জমিন ও পাড়ে মন্দিরের প্রতিকৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন নকশা থাকে।

বুনন শিল্পে দক্ষ মণিপুরী নারীরা প্রয়োজনীয় কাপড় নিজেরাই বুনে থাকেন। প্রায় প্রতিটি মণিপুরী ঘরেই তাঁত রয়েছে। তাদের বুননকৃত শাড়ি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর সুনাম এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

জিআই স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে বাংলা একাডেমির নাট্য সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত লেখক গবেষক নাট্যনির্মাতা শুভাশিস সিনহা বলেন, মণিপুরী শাড়ি এমনিতেই সমাদৃত। এর জিআই সনদ আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, মণিপুরী অধ্যুষিত কমলগঞ্জে সর্বাধিক উৎপাদিত পণ্য মণিপুরী শাড়ী জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় উৎসাহের পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তাঁতিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এছাড়া তাদের জন্য দ্রুত সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

হারল্যান স্টোরের পণ্য কিনে লাখ টাকা জিতলেন আদিবাসী নারী

চাকমা নারী

দেশজুড়ে চলা ‘হারল্যান অথেনটিক বিউটি কার্নিভ্যাল’ ক্যাম্পেইনের পণ্য কিনে লাখ টাকা জিতলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার প্রবিকা চাকমা নামের এক আদিবাসী নারী। শনিবার (১৬ মার্চ) দীঘিনালা হারল্যান স্টোরের সামনে এক অনুষ্ঠানে তার হাতে লাখ টাকার চেক তুলে দেন রিমার্ক-হারল্যানের নির্বাহী পরিচালক ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন।

গত ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনে তিনিই প্রথম লাখপতি।

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা প্রবিকা চাকমা খাগড়াছড়ির দিঘিনালার বরাদমের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে তার বাসার কাছেই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে দীঘিনালা হারল্যান স্টোর। নকল ও ভেজাল পণ্য না কিনে নিজের স্কিনের যত্নে অথেনটিক কিছু কেনার জন্য গত ১৪ মার্চ হারল্যান স্টোরে চলে আসেন প্রবিকা। সেখান থেকে ২০৯০ টাকায় একটি অ্যান্টি স্কার জেল কেনেন তিনি। জেলটি কেনার পর তার মোবাইল ফোন নাম্বারটি ‘হারল্যান অথেনটিক বিউটি কার্নিভ্যাল ২০২৪’ এর জন্য রেজিস্ট্রার করা হয় এবং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে তার জন্য পুরষ্কার নির্বাচন করা হয়। এতেই তিনি পেয়ে যান মেগা প্রাইজ লাখপতি হওয়ার বার্তা।

পুরস্কার জিতে উচ্ছ্বসিত প্রবিকা চাকমা। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে আমি এক লাখ টাকা জিতে গিয়েছি। উপহারটি পেয়ে আমি অনেক খুশি, আপনারাও হারল্যান স্টোরে এসে ন্যূনতম ২০০০ টাকার পণ্য কিনে জিতে নিতে পারেন ক্যাশ ভাউচার।’

হারল্যান স্টোর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশব্যাপী শুরু করেছে হারল্যান অথেনটিক বিউটি কার্নিভ্যাল। নকল ও ভেজাল পণ্যের অপকারিতা সম্পর্কে ক্রেতাদের জানানোর মাধ্যমে অথেনটিক পণ্যের প্রচার ও প্রসারই এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য। সারা দেশে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনে ক্রেতাদের জন্য থাকছে অথেনটিক পণ্য কিনে লাখ লাখ টাকার পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ। 

© all rights reserved - Janajatir Kantho