রঁদেভূর নতুন সভাপতি জাল্লাং কুবি, সম্পাদক শ্রেয়া তালুকদার

 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর অষ্টম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার চবি ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল পুকুর পাড়ে সংগঠনটির বার্ষিক মিলনমেলা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাল্লাং এনরিকো কুবি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়া তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ক্যাপ্রিও চাকমা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ণ ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাঞ্চন চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হ্লুবাইশু চৌধুরী প্রমুখ।

ড. কাঞ্চন চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ভূমিকা রেখে আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষার্থী সমাজের কাছে নিজ নিজ ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে দিচ্ছে যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিজেদের সংগঠনের জন্য নিজেদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন বলেন, নিজের সংস্কৃতিকে চর্চার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য রঁদেভূর মতো সংগঠন প্রাসঙ্গিক। রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীকে কাজ করার মাধ্যমে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো, চাক স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মংক্যউ চাক, নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সহ-সভাপতি পারমিতা চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুসান্না টুডু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চাকমা, ম্রো, মারমা লিপি

 


ডিজিটাল মাধ্যমে নিজভাষার বর্ণমালা দিয়ে লিখতে পারবেন বাংলাদেশের চাকমা, মারমা ও ম্রো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। মোবাইলে ইউবোর্ড অ্যাপস ইনস্টল করে খুব সহজে লিখতে পারবেন বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায়ও।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী ভাষার ডিজিটাইজেশন কম্পোনেন্ট ইউবোর্ড ও ফন্ট শীর্ষক এক কর্মশালায় এ কথা জানান ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইবিএলআইসিটি। কর্মশালায় এর ব্যবহার শিখিয়ে দেন ইবিএলআইসিটি কর্মকর্তারা।

দেশের ভাষা গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক ইবিএলআইসিটি এই কর্মশালা আয়োজন করে। এতে দেখানো হয় খুব সহজে কীভাবে ইউবোর্ডের মাধ্যমে চাকমা, মারমা, ম্রোসহ দেশের ছয়টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভাষা লেখা যায়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের ভাষার বর্ণমালাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডেটা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে পারলে সেগুলোও ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিদ্যমান সব জনগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। এ সংরক্ষণকাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তখন গবেষণা ও উন্নয়নকাজ সহজতর হবে। এতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের ভাষা সংরক্ষণ করতে পারবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। যেসব জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ করতে চায়, তারা ইবিএলআইসিটির মাধ্যমে ভাষা উন্নয়ন করতে পারবে।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন ইবিএলআইসিটির প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব করিম, পরামর্শক মামুন অর রশীদ, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক জিতেন চাকমা, গবেষক প্রসন্ন কুমার চাকমা, মনোজ বাহাদুর গুর্খা।

পিসিপি রাবির নতুন সভাপতি উজানী চাকমা, সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা

 

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে উজানী চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামীন ত্রিপুরা নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া হলরুমে সংগঠনটির রাবি শাখার অষ্টম কাউন্সিলে তারা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিলে সংগঠনটির সদ্যবিদায়ী সভাপতি সমু চাকমা সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুপসী চাকমা বলেন, নারীদের নেতৃত্বে আসা এখনও সামাজিকভাবে কঠিন হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্র, যুব ও নারী সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ অনেক দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখেছে। কিন্তু যে দলই ক্ষমতায় বসেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার প্রদানের প্রসঙ্গে একই পলিসি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করেছে।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, জুম্মদের ভাগ্য বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর কিছুটা প্রত্যাশার সঞ্চার হলেও দিন শেষে কেউই উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের খোলস থেকে বের হতে পারেনি। তাই আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

কাউন্সিল শেষে শুভাশীষ চাকমা নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

কুবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মার সভাপতিত্বে এবং মংক্যএ মার্মা কাস্পিয়ান দেওয়ানের সঞ্চালনায় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক . মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলা বিভাগের অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান, আদিবাসী সাবেক শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মাসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইংরেজি বিভাগের জুই চাওলা বর্মন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক জীবনের পথ প্রদর্শক আমাদের সংগঠনের সিনিয়ররা। আপনাদের কাছ থেকেই শিখেছি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতার পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিকতার অর্থ। শিখেছি পাঠ্য বইয়ের বাহিরের যে বাস্তবিক শিক্ষা নেতৃত্বের গুণাবলী, সহপাঠীদের সঙ্গে দৃঢ় থাকার মানসিকতা। নবীনদের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা শুভকামনা।

অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমি ২০০২ সালে রাজশাহীতে পিএইচডি করা কালীন আদিবাসীদের জীবনধারা খুব কাছ থেকে দেখেছি, সেই কৌতুহলের জায়গা থেকে আমি আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কে একটা রিসার্চ পেপার দাড় করিয়েছিলাম। যা ছিল আমার জীবনের প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন। এটি জমার দেওয়ার একসপ্তাহ পরে এটি একটি জার্নালের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমার জীবনে লিখে প্রথম টাকা অর্জন সেটাও আদিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়াও আমি নয়টি প্রজেক্ট আদিবাসীদের নিয়ে করি এবং সরকারিভাবে আদিবাসীদের সম্পর্কে তিনটি বইও প্রকাশ করেছি।

আদীবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মা বলেন, ‘আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা এবং কথা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ধারণ করা এবং সেগুলোকে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।আমরা আশা করছি নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা থেকে আমাদের জাতি, এলাকা, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরার অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানের অতিথিদের ক্রেস্ট, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

শুরু হয়েছে সাঁওতালদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব সহরায়

 


সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব সহরায় শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট এলাকায় দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবের সূচনা হয়, যা আগামী শনিবার সমাপ্ত হবে।

সাঁওতালি সারি ধর্মের প্রাচীন রীতিনীতি অনুসরণে রাজাবিরাট মানঝিহি পরিষদ এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে স্থানীয় সারি ধর্মের শত শত অনুসারী অংশ নিচ্ছেন। আদি কাল থেকে চলে আসা এইসহরায়উৎসব সাঁওতাল জাতিসত্তার অন্যতম বৃহৎ তাৎপর্যপূর্ণ কৃষিভিত্তিক উৎসব হিসেবে পরিচিত।

উৎসবের শুরুতে সাঁওতালি আদি ধর্ম সংস্কৃতি বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিত বিমল মুরমু আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন। সময় মানঝিহি বা গ্রামপ্রধান বিটিশ সরেণ, সাঁওতাল আদি ধর্ম ভাষা সংস্কৃতি সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ সরেণ, মানঝিহি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাখন মার্ডি, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধার আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী গবেষক মনির হোসেন, গাইবান্ধা জলবায়ু পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী প্রামানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সহরায় উৎসব কার্তিক মাসে হয়ে থাকে। তবে ভারতের কিছু অঞ্চল ও বাংলাদেশের সাঁওতালরা পৌষ মাসে ধান তোলা শেষ করার পর সহরায় পালন করে। সহরায় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী কয়েকটি পর্বে পালিত হয়। পর্বগুলা হল উম মাহা, গট বঙ্গা, বঙ্গা মাহা, খুন্টৗউ মাহা, জালে মাহা।

সহরায় উৎসবের মধ্য দিয়ে কৃষি সরঞ্জাম ও গাবাদিপশুর সাথে সাঁওতালদের গভীর সম্পর্কের বিষয় উঠে আসে। এতে নতুন ফসল ঘরে তোলা, গবাদিপশু ও ধনসম্পদের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উৎসবে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে ঢোল-মাদলের তালে নেচে-গেয়ে প্রকৃতি ও দেবতার কাছে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন, যা সাওতাঁল সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ হেবাং এখন শেওড়াপাড়ায়

 


পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নারীদের দ্বারা পরিচালিত রেস্তোরাঁ হেবাং। পরিচিতি জনপ্রিয়তায় ইতোমধ্যেই আকাশ ছুঁয়েছে। রোস্তারাঁটির মোহাম্মদপুরের রিং রোড শাখার ঠিকানা অপরিবর্তিত থাকলেও কাজীপাড়ার হেবাং এসেছে শেওড়াপাড়ায়। এখানে খাবারের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা নতুন অনেক কিছু নিয়ে এসেছে। খাবারের পাশাপাশি পাহাড়ি জুমের চাল, চালের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়াসহ নানা খাদ্যপণ্য আর ঘর সাজানোর নানা পণ্যও আছে এখানে।

শেওড়াপাড়ার নতুন এ শাখা খোলা হয়েছে গত বছরের নভেম্বর মাসে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু কিছু কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তাতে অবশ্য এ রেস্তোরাঁ থেমে নেই। বরং খাবারের পাশাপাশি নতুন ‘অনেক কিছু’ নিয়ে এখন সচল শেওড়াপাড়ার হেবাং। 

নতুন শাখা নিয়ে রেস্তোরাঁটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিপলী চাকমা জানান, আগে শুধু খাবার ছিল। পাহাড়ের সেসব খাবার তো আছেই। এর পাশাপাশি এখন পাহাড়ের বিন্নি চাল, আটা, চালের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, নারকেল তেলসহ নানা খাদ্য উপাদান পাওয়া যাচ্ছে।

আরও আছে। পাহাড়ের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে এমন বুক মার্ক, পোশাক, ফ্রিজ ম্যাগনেট ইত্যাদি ঘর সাজানোর এমন নানা উপাদানও আছে। খেতে গিয়ে এসব জিনিসপত্র কিনতে পারবেন যে কেউ। বিপলী জানান, পাহাড়ি গয়নাসহ নান তৈজসও পাওয়া যাবে শিগগিরই।

শেওড়াপাড়ায় মেট্রোরেলের স্টেশন থেকে খানিকটা দূরে ৩১৮ নম্বর পিলারের কাছের দোতলায় নতুন হেবাং এর ঠিকানা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে হেবাং। যদি এ রেস্তোরাঁয় কেউ বিয়ে, জন্মদিন বা যেকোনো অনুষ্ঠান করতে চান, তারও ব্যবস্থা আছে।

আদিবাসী নারী উদ্যোক্তা ফেন্সি সুমের তৈরী করেছেন ৭০ জনের কর্মসংস্থান

 


ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের। একজন সফল আদিবাসী নারী উদ্যোক্তা। তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠা ‘ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস’ আজ বাংলাদেশের স্কিন কেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি আস্থার নাম। অনলাইনভিত্তিক ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু করে এক যুগের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন একটি রেপুটেড কোম্পানি ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

ফেন্সি সুমের এখন শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, বরং লাখো নারীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস অনলাইনে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে অফলাইন কার্যক্রমও জোরদার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ছয়টি আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি সেবা দেওয়া হচ্ছে। পণ্যের মান ও ত্বকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস তাদের পণ্য সংগ্রহ করে থাকে। চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, জাপান ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি পণ্য ইমপোর্ট করে বাজারজাত করা হয়।

ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমেরের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথ সহজ ছিল না। সিলেটের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাসিয়া জনগোষ্ঠীর এই নারী ভাষাগত চ্যালেঞ্জসহ নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজ নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার স্পষ্ট ভাষা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপন ও আন্তরিক ব্যবহারের কারণে গ্রাহকদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের দৃঢ় বন্ধন।

আদিবাসী ও পাহাড়ি অঞ্চলের গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে শোরুম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পার্বত্য চট্টগ্রামেও রয়েছে তাদের আউটলেট। ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ নিজ জেলা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় নতুন শোরুম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা।

স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি নারীদের জন্য প্রিমিয়াম ক্লোথিং ব্র্যান্ড ‘ফেন্সি আইকনিক চালু করেছেন তিনি। নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি এই ব্র্যান্ডের পোশাক অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

বর্তমানে ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টসের মাধ্যমে প্রায় ৭০ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখছে। একজন আদিবাসী সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ফেন্সি ফ্রান্সিস্কা সুমের নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের কথা ভাবেন এবং তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

© all rights reserved - Janajatir Kantho