সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব সহরায় শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট এলাকায় ৫ দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবের সূচনা হয়, যা আগামী শনিবার সমাপ্ত হবে।
সাঁওতালি সারি ধর্মের প্রাচীন রীতিনীতি অনুসরণে রাজাবিরাট মানঝিহি পরিষদ এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে স্থানীয় সারি ধর্মের শত শত অনুসারী অংশ নিচ্ছেন। আদি কাল থেকে চলে আসা এই ‘সহরায়’ উৎসব সাঁওতাল জাতিসত্তার অন্যতম বৃহৎ ও তাৎপর্যপূর্ণ কৃষিভিত্তিক উৎসব হিসেবে পরিচিত।
উৎসবের শুরুতে সাঁওতালি আদি ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিত বিমল মুরমু আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় মানঝিহি বা গ্রামপ্রধান বিটিশ সরেণ, সাঁওতাল আদি ধর্ম ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ সরেণ, মানঝিহি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাখন মার্ডি, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধার আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী গবেষক মনির হোসেন, গাইবান্ধা জলবায়ু ও পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী প্রামানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সহরায়
উৎসব কার্তিক মাসে হয়ে থাকে। তবে ভারতের কিছু অঞ্চল ও বাংলাদেশের সাঁওতালরা পৌষ মাসে
ধান তোলা শেষ করার পর সহরায় পালন করে। সহরায় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী কয়েকটি পর্বে পালিত
হয়। পর্বগুলা হল উম মাহা, গট বঙ্গা, বঙ্গা মাহা, খুন্টৗউ মাহা, জালে মাহা।
সহরায়
উৎসবের মধ্য দিয়ে কৃষি সরঞ্জাম ও গাবাদিপশুর সাথে সাঁওতালদের গভীর সম্পর্কের বিষয় উঠে
আসে। এতে নতুন ফসল ঘরে তোলা, গবাদিপশু ও ধনসম্পদের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উৎসবে নারী-পুরুষ
ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে ঢোল-মাদলের তালে নেচে-গেয়ে প্রকৃতি ও দেবতার কাছে শান্তি ও
সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন, যা সাওতাঁল সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন