চট্টগ্রামের
বোয়ালখালীতে শিকলে বেঁধে তিন দিন ধরে
অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গেগেনার ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার
করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি ঘর
থেকে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
গেগেনার
ত্রিপুরা বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার জৈতুনপাড়া এলাকার লাফেহা ত্রিপুরার ছেলে। তিন
কন্যাসন্তানের জনক তিনি। নগরীতে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান; এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির
কাজ করতেন। তার স্ত্রী একজন পোশাক শ্রমিক।
ভুক্তভোগী
গেগেনার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, গত ১৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা
থেকে সিএনজি টেক্সিতে করে তাকে বোয়ালখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ঘরে কোমরে শিকল
বাঁধা অবস্থায় তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, আক্রমণকারীরা
সামান্য পানি দিত; বেশি পানি চাইলে প্রস্রাব খাওয়ানোর চেষ্টা করা হতো। চিৎকার করতে
না পারার জন্য তার মুখে টেপ লাগানো হয়েছিল।
তিনি
আরও জানান, নগরীতে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় আব্দুল করিম ইমন নামের এক যুবকের সঙ্গে
তার পরিচয় হয়। তিন মাস আগে ইমনের মোবাইলে গান শোনার সময় এক ব্যক্তি জরুরি কল করার কথা
বলে মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছিল ইমন ও তার
সহযোগীরা।
গেগেনারের
ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি রিকশা চালানোর সময় ১০–১২ জন যুবক তাকে মারধর করে চোখ বেঁধে
সিএনজিতে তুলে নেন। পরে মোবাইলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণ
হিসেবে আরও ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
স্বামীকে
মুক্ত করতে গেগেনারের স্ত্রী ধারদেনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করেন। স্থানীয়দের
মাধ্যমে খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুফিয়ান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, গেগেনারের
শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ
জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুস্তম মাঝি বাড়ির মৃত আবদুল
কুদ্দুছের ছেলে আব্দুল করিম (২৭) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী বাড়ির মৃত আবুল কাসেমের
ছেলে মো. মঈন উদ্দিনকে (২৬) আটক করা হয়েছে।
ঘটনার
সত্যতা স্বীকার করে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন,
এই দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন