সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী রাঙ্গামাটির দীপেন দেওয়ান

 


সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন রাঙ্গামাটি-২৯৯ নম্বর আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৬ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে পরাজিত করেন। পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট ২১৪টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ৮৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট। এই আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ হাজার ২৬৭ জন। এরমধ্যে দুই লাখ ৭৪ হাজার ১৮ ভোট পড়েছে। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ১৫২ এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৬৩ হাজার ৮৬৬। ৫৪ দশমিক শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

নির্বাচনে জয়লাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় দীপেন দেওয়ান বলেন, তৃণমূল মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করেছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর সঁপে দিয়েছে। আমরা সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই। বিএনপি একটি জনবান্ধব দল। আমাদের আচরণও সেই রকম হতে হবে। আমাদের এই জয় একটি চ্যালেঞ্জিং জয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। এই দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

রাঙ্গামাটি আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, দীপেন দেওয়ানের সততা, নিষ্ঠা দলের প্রতি তার ত্যাগ, ধৈর্য সবকিছুর কারণসহ তারেক রহমানেরসবার আগে দেশএই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাঙ্গামাটির মানুষ তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভের জন্য আমি দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী মর্যাদায় পার্বত্য মন্ত্রী করার দাবি জানাচ্ছি।

 

বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল আদিবাসী যুবকের

 


খাগড়াছড়ির গুইমারায় যাত্রীবাসী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জয় ত্রিপুরা (২৫) নামের একজন আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বাইল্যাছড়ি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জয় ত্রিপুরা গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের পঙ্খীমুড়া এলাকার বাসিন্দা কৃপাচার্য ত্রিপুরার ছেলে। একই মোটরসাইকেলে থাকা হনেসা ত্রিপুরা (১৯) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার মনোহরি ত্রিপুরার ছেলে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা খাগড়াছড়িগামী শান্তি পরিবহন বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল চালক কুবেন জয় ত্রিপুরা বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহত যুবককে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঘটনার পর শান্তি পরিবহনের চালক ও সহকারী পলাতক। বাসটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

বেতকুড়িতে চারদিনব্যাপী জিবিসির বড়সভা শুরু

 


ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গারো ব্যাপ্টিষ্ট কনভেনশনের (জিবিসি) ১৩৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে উপজেলার বেতকুড়ি বৈথেল হোম মিশন প্রাঙ্গণে এ সভা শুরু হয়।

সভার উদ্বোধন ঘোষণা করেন জিবিসির প্রেসিডেন্ট বরুণ কুমার দারিং। এরআগে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দকমান্দা দোমি পরিধান করে শিল্পীরা উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন।

এবারের বড়সভার মূলসুর ‘প্রেমই শ্রেষ্ঠ’। মূলবচন ‘তোমার সমস্ত অন্তকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করিবে, এইটি মহৎ ও প্রথম আজ্ঞা। আর দ্বিতীয়টি ইহার তুল্য; ‘তোমার প্রতিবেশীকে আপনার মত প্রেম করিবে’।

সভার প্রধান বক্তা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এস এন্ড ডি রেভারেন্ড ম্যাকডোনাল্ড মুনিয়া অধিকারী।

জিবিসির বার্ষিক এ সাধারণ সভা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চারদিনের সম্মেলনে বেশ কয়েকটি সেশন পরিচালনা হবে। সাধারণ সভা ছাড়াও থাকছে ভলিবল, সিইএস, উইমেন সোসাইটি, বিভাগ ভিত্তিক সংকীর্তন প্রতিযোগিতা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিবিসির সেক্রেটারি জেনারেল পাস্টার সুরঞ্জন ডিব্রা, ফাইনান্স ডিরেক্টর পাস্টার তড়িৎ মানখিন, মিশন বোর্ডের ডিরেক্টর রেভারেন্ড মধুনাথ সাংমা, এডুকেশন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ডিকন বিহার জাম্বিল, সিইএস এর প্রেসিডেন্ট ডিকন অনির্বান চাম্বুগং প্রমুখ।

মধুপুরে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গারো বইমেলা

 


টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বই হোক আত্মবিকাশের মূলমন্ত্র’ স্লোগানকে ধারণ করে শুরু হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গারো বইমেলা। আগামী ৩১ জানুয়ারি শালবনের ছিমছাম পীরগাছা সেন্ট পৌলস হাইস্কুল মাঠে মেলার উদ্বোধন হবার কথা রয়েছে। মেলা চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  

এ মেলার আয়োজক থকবিরিম প্রকাশনী। জানা গেছে, গারো সাহিত্যকে ঘিরে শুরু হতে যাওয়া এক সপ্তাহের এই সাহিত্য-সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় দেশের নানাপ্রান্ত থেকে কবি-সাহিত্যানুরাগীরা অংশ নেবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে ঐতিহ্যবাহী চাম্বিল মেসা, আজিয়া, রেরে, সেরেনজিং, নাংগরে রে, গারো লোককাহিনী পাঠ, গারো ভাষায় কবিতা ও ছড়া পাঠের আয়োজন।

এছাড়াও পরিবেশিত হবে ঐতিহ্যবাহী গারো নৃত্য। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বইমেলায় নতুন প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

থকবিরিম প্রকাশনীর কর্ণধার কবি মিঠুন রাকসাম জনজাতির কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। বইমেলার বার্তা পৌঁছে দিতে মধুপুরের গ্রামে গ্রামে গারো ও বাংলা ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে। এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বেশ সাড়া দিচ্ছেন। বইয়ের পাতায় গারো জীবনের গল্প খুঁজতে সবাইকে মেলায় আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

নির্বাচনে আদিবাসীদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমতলের জাতিগত পরিচয়হীন নাগরিক সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতারা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক . খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। সময় বক্তৃতা করেন আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা, লেখক সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক জনাব শামসুল হুদা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরো শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে উত্থাপিত দাবিতে বলা হয়, দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আবাসনসহ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সমতল পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী সকল আদিবাসী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

রাজনৈতিক দল আগামী সরকারের কাছে উত্থাপিত প্রত্যাশায় বলা হয়, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিকীকরণ স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করতে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যথাযথ ক্ষমতায়ন করতে হবে।

পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে। অভ্যন্তবীণ উদ্বাস্তু ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাঁদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাহাড়িদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে সমতলেরর আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

মূল বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশে প্রায় ৫৪টির বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার বড় একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় অঞ্চলে এখনো অস্থিরতা প্রান্তিকতা রয়ে গেছে।

ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্বমিত্র চাকমার

 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। আজ সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি-সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও লেখেন, এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়। ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।

কিশোরদের কানে ধরিয়ে ওঠবস করানোর বিষয়ে তিনি বলেন, কানে ধরিয়ে ওঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়। আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানে, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও।

সর্বমিত্র চাকমা বলেন, কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই। আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি।

সন্ধ্যায় কয়েকজন কিশোরকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে (কেন্দ্রীয় মাঠে) খেলতে আসা একদল কিশোর নিজেরাই কানে ধরে ওঠবস করছে। এ সময় হাতে লাঠি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক নেটিজেন ভিডিওটি শেয়ার করে সর্বমিত্র চাকমার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে ফেসবুকে দেয়া আরেক পোস্টে কয়েকজন কিশোরকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর ঘটনায় নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চান সর্বমিত্র চাকমা।

© all rights reserved - Janajatir Kantho