মধুপুরে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গারো বইমেলা

 


টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বই হোক আত্মবিকাশের মূলমন্ত্র’ স্লোগানকে ধারণ করে শুরু হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী গারো বইমেলা। আগামী ৩১ জানুয়ারি শালবনের ছিমছাম পীরগাছা সেন্ট পৌলস হাইস্কুল মাঠে মেলার উদ্বোধন হবার কথা রয়েছে। মেলা চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  

এ মেলার আয়োজক থকবিরিম প্রকাশনী। জানা গেছে, গারো সাহিত্যকে ঘিরে শুরু হতে যাওয়া এক সপ্তাহের এই সাহিত্য-সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় দেশের নানাপ্রান্ত থেকে কবি-সাহিত্যানুরাগীরা অংশ নেবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে ঐতিহ্যবাহী চাম্বিল মেসা, আজিয়া, রেরে, সেরেনজিং, নাংগরে রে, গারো লোককাহিনী পাঠ, গারো ভাষায় কবিতা ও ছড়া পাঠের আয়োজন।

এছাড়াও পরিবেশিত হবে ঐতিহ্যবাহী গারো নৃত্য। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বইমেলায় নতুন প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

থকবিরিম প্রকাশনীর কর্ণধার কবি মিঠুন রাকসাম জনজাতির কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। বইমেলার বার্তা পৌঁছে দিতে মধুপুরের গ্রামে গ্রামে গারো ও বাংলা ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে। এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বেশ সাড়া দিচ্ছেন। বইয়ের পাতায় গারো জীবনের গল্প খুঁজতে সবাইকে মেলায় আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

নির্বাচনে আদিবাসীদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমতলের জাতিগত পরিচয়হীন নাগরিক সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতারা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক . খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। সময় বক্তৃতা করেন আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা, লেখক সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক জনাব শামসুল হুদা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরো শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে উত্থাপিত দাবিতে বলা হয়, দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আবাসনসহ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সমতল পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী সকল আদিবাসী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

রাজনৈতিক দল আগামী সরকারের কাছে উত্থাপিত প্রত্যাশায় বলা হয়, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিকীকরণ স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করতে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যথাযথ ক্ষমতায়ন করতে হবে।

পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে। অভ্যন্তবীণ উদ্বাস্তু ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাঁদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাহাড়িদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে সমতলেরর আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

মূল বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশে প্রায় ৫৪টির বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার বড় একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় অঞ্চলে এখনো অস্থিরতা প্রান্তিকতা রয়ে গেছে।

ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্বমিত্র চাকমার

 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। আজ সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি-সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও লেখেন, এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়। ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা।

কিশোরদের কানে ধরিয়ে ওঠবস করানোর বিষয়ে তিনি বলেন, কানে ধরিয়ে ওঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়। আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানে, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও।

সর্বমিত্র চাকমা বলেন, কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই। আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি।

সন্ধ্যায় কয়েকজন কিশোরকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে (কেন্দ্রীয় মাঠে) খেলতে আসা একদল কিশোর নিজেরাই কানে ধরে ওঠবস করছে। এ সময় হাতে লাঠি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক নেটিজেন ভিডিওটি শেয়ার করে সর্বমিত্র চাকমার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে ফেসবুকে দেয়া আরেক পোস্টে কয়েকজন কিশোরকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর ঘটনায় নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চান সর্বমিত্র চাকমা।

ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র রক্ষায় পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রবীণ আদিবাসী শিল্পী

 


ভারতের চতুর্থ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রীপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের পালঘরের ৯০ বছর বয়সী আদিবাসী শিল্পী ভিখল্যা লাদাক্যা ধিন্দার নাম। ২০২৬ সালে 'তরপা' বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন তিনি।

তরপা মূলত শুকনো লাউয়ের খোল, বাঁশ এবং তালপাতার সাহায্যে তৈরি হয়। এই বাদ্যযন্ত্র ওয়ার্লি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র। প্রায় পাঁচ ফুট দীর্ঘের বাদ্যযন্ত্র তরপা। অদ্ভুদ মিঠে স্বর, যার তালে তালে রাতভর নৃত্যে মজে থাকে নারী পুরুষ।

বহু বছর ধরে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পী লাদাক্যা ধিন্দা। দশ বছর বয়সে যে বাদ্যযন্ত্রে হাতেখড়ি তাঁর, সেই বাদ্যযন্ত্রই তাঁকে পুরষ্কার এনে দিল নব্বই বছরে। পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়ায় বেশ খুশি তিনি। এই বয়সে এসে সম্মানিত হলেন সবকিছু যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ এমনটাই মনে করছেন এই প্রবীণ আদিবাসী শিল্পী।

গণমাধ্যমকে ভিখল্যা ধিন্দা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিই আমাদের আসল সম্পদ। আমার পরিবারে ২২ জন সদস্য। আমার অন্য কোনও পেশা নেই। সামান্য কৃষিকাজ এবং তরপা বাজনা তৈরি করেই আমরা বেঁচে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পাওয়া একটি পুরষ্কার তাকে তার পরিবারের জন্য একটি ছোট কুঁড়েঘর তৈরি করতে সাহায্য করেছে।’

এদিকে, শুধু ধিন্দার পরিবারে নয়, তাঁর সম্মানে উৎসাহিত গোটা পালঘরই। এ যেন গোটা গ্রামের স্বীকৃতির সম্মান। বিশেষ করে যে অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বাদ্যযন্ত্র প্রচলিত, তাঁরা মেতে উঠেছেন উৎসবে। 

শ্রীমঙ্গলে আদিবাসীদের পৈতৃক ভূমিতে হামলা, জবরদখলের চেষ্টা

 

প্রথম ম্রো নারী শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাবিতে চান্স পেলেন ইয়াপাও ম্রো

 


বলা হয়ে থাকে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সব জয় করা সম্ভব। ঠিক তেমনি শত প্রতিকূলতা, প্রান্তিকতা, বঞ্চনা ও দুর্গমতা সত্ত্বেও মেধা পরিশ্রমের সমন্বয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন ইয়াপাও ম্রো। এর মাধ্যমে তিনি রীতিমত ইতিহাস গড়েছেন। ইয়াপাও ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রথম নারী শিক্ষার্থী যিনি ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন।  

বান্দরবানের থানছি উপজেলার ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ইয়াপাও ম্রো। তিনি এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১১২৫তম স্থান অর্জন করেছেন।

ইয়াপাও ম্রোর এই সাফল্যে তাঁর এলাকা ও আদিবাসী কমিউনিটির মধ্যে আনন্দ বইছে। অনেকে বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে উঠে আসা ইয়াপাও এর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি তাঁর পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। যেখানে এখনো মানসম্মত শিক্ষা ও অবকাঠামোর সুযোগ সীমিত, সেখানে তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে—সংগ্রাম আর সুযোগ এক হলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।

অভিনন্দন জানিয়ে ধর্মরাজ নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ম্রো জনগোষ্ঠী থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সু্যোগ পাওয়া প্রথম নারী শিক্ষার্থী! এগিয়ে যাক প্লুং এর ভবিষ্যতেরা।

শিক্ষানুরাগীরা বলছেন, ইয়াপাও ম্রো’র এই সাফল্য অন্যান্য নারী ম্রো শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দাবিতে আদিবাসীকে শিকলে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন

 


চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শিকলে বেঁধে তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গেগেনার ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি ঘর থেকে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

গেগেনার ত্রিপুরা বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার জৈতুনপাড়া এলাকার লাফেহা ত্রিপুরার ছেলে। তিন কন্যাসন্তানের জনক তিনি। নগরীতে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান; এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার স্ত্রী একজন পোশাক শ্রমিক।

ভুক্তভোগী গেগেনার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, গত ১৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সিএনজি টেক্সিতে করে তাকে বোয়ালখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ঘরে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, আক্রমণকারীরা সামান্য পানি দিত; বেশি পানি চাইলে প্রস্রাব খাওয়ানোর চেষ্টা করা হতো। চিৎকার করতে না পারার জন্য তার মুখে টেপ লাগানো হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, নগরীতে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় আব্দুল করিম ইমন নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিন মাস আগে ইমনের মোবাইলে গান শোনার সময় এক ব্যক্তি জরুরি কল করার কথা বলে মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছিল ইমন ও তার সহযোগীরা।

গেগেনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি রিকশা চালানোর সময় ১০১২ জন যুবক তাকে মারধর করে চোখ বেঁধে সিএনজিতে তুলে নেন। পরে মোবাইলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণ হিসেবে আরও ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

স্বামীকে মুক্ত করতে গেগেনারের স্ত্রী ধারদেনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুফিয়ান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, গেগেনারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুস্তম মাঝি বাড়ির মৃত আবদুল কুদ্দুছের ছেলে আব্দুল করিম (২৭) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী বাড়ির মৃত আবুল কাসেমের ছেলে মো. মঈন উদ্দিনকে (২৬) আটক করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, এই দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধানের শীষের সমর্থনে মারমা ঐক্য পরিষদের নির্বাচনী পথসভা

 


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়ার সমর্থনে খাগড়াছড়িতে পথসভা করেছেন মারমা ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের সরকারি কলেজ মাঠ থেকে এ পথসভা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এইদিন দুপুরে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ থেকে বিশাল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে মারমা জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যোগ দেন।

পথসভায় ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি খাগড়াছড়ি জেলার উন্নয়নের কাজ করতে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, মারমা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষত যারা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করার কথা বলেছেন বিএনপির এই প্রার্থী।

পথসভায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি কংচাইরী মাস্টারের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার এবং যুগ্ম-সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ মারমা জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

বাগাছাসের ৬৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

 


বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৬৪ সদস্যের এই কমিটিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাগাছাসের নেতা-কর্মীরা স্থান পেয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অনন্য অনিক রেমা ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ন রিছিল স্বাক্ষর করেছেন।

বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এক নম্বর সহ-সভাপতি করা হয়েছে অর্ক ডেনিশ ধ্রুব সাংমাকে। এছাড়াও আনসেং দালবৎ, অতি দ্রুত সাংমা, তেনজিং দিব্রা, রনি আজিম, শুমলা রিছিল সহ-সভাপতি হয়েছেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে তীর্থ রুরাম, রনি চিরান, মিলিংটন মানখিন, তিথি দিও, শিমন রিছিল ও সহ-সাংগঠনিক হিসেবে রয়েছেন চাংকি চিছাম, অক্ষয় হাগিদক, সান চাম্বুগং, পিতি নকরেক ও বিপ্লব রেমা।

গত বছরের ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ময়মনসিংহের ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ভবন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় সংসদের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক অঞ্জন ম্রং। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ছিলেন রঞ্জিত নকরেক, শ্যামল মানখিন, লিংকন ডিব্রা ও অনুপ হাদিমা।

ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তিকে অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান

 


জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। এ জন্য জাতীয় রাজনৈতিক দলসমূহকে চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংগঠনটির তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও খায়রুল ইসলাম চৌধুরী চিঠিতে সই করেছেন। এতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ পাঁচ দফা দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিটি ইতোমধ্যে বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি, জামায়াত সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলসমূহকে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী–অধ্যুষিত বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি অঞ্চল। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে। তারা নিজস্ব শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়া থেকেও বঞ্চিত হয়ে আছে।

আরও বলা হয়েছে, এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি সই হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য সমস্যার সমাধানও হয়নি। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সংহত ও সম্পূর্ণ করার জন্য এক ‘সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছে’ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আরও অধিক গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে।’

 

রঁদেভূর নতুন সভাপতি জাল্লাং কুবি, সম্পাদক শ্রেয়া তালুকদার

 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর অষ্টম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার চবি ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল পুকুর পাড়ে সংগঠনটির বার্ষিক মিলনমেলা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাল্লাং এনরিকো কুবি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়া তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে একই শিক্ষাবর্ষের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ক্যাপ্রিও চাকমা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ণ ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাঞ্চন চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হ্লুবাইশু চৌধুরী প্রমুখ।

ড. কাঞ্চন চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ভূমিকা রেখে আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষার্থী সমাজের কাছে নিজ নিজ ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে দিচ্ছে যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিজেদের সংগঠনের জন্য নিজেদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক উমে ছেন বলেন, নিজের সংস্কৃতিকে চর্চার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য রঁদেভূর মতো সংগঠন প্রাসঙ্গিক। রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীকে কাজ করার মাধ্যমে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো, চাক স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মংক্যউ চাক, নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সহ-সভাপতি পারমিতা চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুসান্না টুডু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চাকমা, ম্রো, মারমা লিপি

 


ডিজিটাল মাধ্যমে নিজভাষার বর্ণমালা দিয়ে লিখতে পারবেন বাংলাদেশের চাকমা, মারমা ও ম্রো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। মোবাইলে ইউবোর্ড অ্যাপস ইনস্টল করে খুব সহজে লিখতে পারবেন বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায়ও।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী ভাষার ডিজিটাইজেশন কম্পোনেন্ট ইউবোর্ড ও ফন্ট শীর্ষক এক কর্মশালায় এ কথা জানান ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইবিএলআইসিটি। কর্মশালায় এর ব্যবহার শিখিয়ে দেন ইবিএলআইসিটি কর্মকর্তারা।

দেশের ভাষা গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক ইবিএলআইসিটি এই কর্মশালা আয়োজন করে। এতে দেখানো হয় খুব সহজে কীভাবে ইউবোর্ডের মাধ্যমে চাকমা, মারমা, ম্রোসহ দেশের ছয়টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভাষা লেখা যায়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের ভাষার বর্ণমালাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডেটা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে পারলে সেগুলোও ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিদ্যমান সব জনগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। এ সংরক্ষণকাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তখন গবেষণা ও উন্নয়নকাজ সহজতর হবে। এতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের ভাষা সংরক্ষণ করতে পারবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। যেসব জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ করতে চায়, তারা ইবিএলআইসিটির মাধ্যমে ভাষা উন্নয়ন করতে পারবে।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন ইবিএলআইসিটির প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব করিম, পরামর্শক মামুন অর রশীদ, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক জিতেন চাকমা, গবেষক প্রসন্ন কুমার চাকমা, মনোজ বাহাদুর গুর্খা।

পিসিপি রাবির নতুন সভাপতি উজানী চাকমা, সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা

 

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে উজানী চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামীন ত্রিপুরা নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া হলরুমে সংগঠনটির রাবি শাখার অষ্টম কাউন্সিলে তারা নির্বাচিত হন।

কাউন্সিলে সংগঠনটির সদ্যবিদায়ী সভাপতি সমু চাকমা সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুপসী চাকমা বলেন, নারীদের নেতৃত্বে আসা এখনও সামাজিকভাবে কঠিন হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্র, যুব ও নারী সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ অনেক দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখেছে। কিন্তু যে দলই ক্ষমতায় বসেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মদের অধিকার প্রদানের প্রসঙ্গে একই পলিসি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করেছে।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, জুম্মদের ভাগ্য বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর কিছুটা প্রত্যাশার সঞ্চার হলেও দিন শেষে কেউই উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের খোলস থেকে বের হতে পারেনি। তাই আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

কাউন্সিল শেষে শুভাশীষ চাকমা নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

কুবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

 


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টির আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মার সভাপতিত্বে এবং মংক্যএ মার্মা কাস্পিয়ান দেওয়ানের সঞ্চালনায় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক . মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলা বিভাগের অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান, আদিবাসী সাবেক শিক্ষার্থী যুবরাজ দেববর্মাসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইংরেজি বিভাগের জুই চাওলা বর্মন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক জীবনের পথ প্রদর্শক আমাদের সংগঠনের সিনিয়ররা। আপনাদের কাছ থেকেই শিখেছি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতার পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিকতার অর্থ। শিখেছি পাঠ্য বইয়ের বাহিরের যে বাস্তবিক শিক্ষা নেতৃত্বের গুণাবলী, সহপাঠীদের সঙ্গে দৃঢ় থাকার মানসিকতা। নবীনদের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা শুভকামনা।

অধ্যাপক . জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমি ২০০২ সালে রাজশাহীতে পিএইচডি করা কালীন আদিবাসীদের জীবনধারা খুব কাছ থেকে দেখেছি, সেই কৌতুহলের জায়গা থেকে আমি আদিবাসীদের জীবনধারা সম্পর্কে একটা রিসার্চ পেপার দাড় করিয়েছিলাম। যা ছিল আমার জীবনের প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন। এটি জমার দেওয়ার একসপ্তাহ পরে এটি একটি জার্নালের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমার জীবনে লিখে প্রথম টাকা অর্জন সেটাও আদিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়াও আমি নয়টি প্রজেক্ট আদিবাসীদের নিয়ে করি এবং সরকারিভাবে আদিবাসীদের সম্পর্কে তিনটি বইও প্রকাশ করেছি।

আদীবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি সুইচিংনু মার্মা বলেন, ‘আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা এবং কথা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ধারণ করা এবং সেগুলোকে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।আমরা আশা করছি নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা থেকে আমাদের জাতি, এলাকা, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরার অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানের অতিথিদের ক্রেস্ট, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল প্রবীণ শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

© all rights reserved - Janajatir Kantho