জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিল মারান্ডির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 


সমতলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বৃহত্তর সংগঠন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিল মারান্ডির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের জানুয়ারি সোমবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাঁচগাছিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন তাকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছে।

অনিল মারান্ডি ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি শোষিত নিপীড়িত মানুষকে একতাবদ্ধ করে সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লিতে হামলার পর নিপীড়িত মানুষের সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করার পরও তিনি সংগ্রামআন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আদিবাসী পরিচয়হীনতা প্রতিনিয়ত তাঁকে পীড়িত করত।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আদিবাসীদের জমি রক্ষার জন্য অনিল মারান্ডি সংগ্রাম শুরু করেন। প্রথম জীবনে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্য সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায় রাজশাহীর বাবুডাইং গ্রাম। তিনি শোষিত ও নিপীড়িত মানুষকে একতাবদ্ধ করে সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশনের আদলে সমতলেও আদিবাসীদের ভূমি কমিশন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এই আদিবাসী নেতা।

অনিল মারান্ডি সম্পর্কে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ এক লেখায় জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন একজন মেধাবী বিশ্লেষক। খুব সহজে যেকোনো বিষয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দাঁড় করাতে পারতেন। তবে এই বিশ্লেষণ তিনি করতেন আদিবাসী জগতের প্রান্তিকতার চশমা দিয়ে। এই বিশ্লেষণে আহাজারি যেমন থাকত, থাকত তেমনি দ্রোহের ঝাঁজ। যেকোনো একটি বিষয়ে কিছু সময় আলাপ করলেই তিনি বিষয়টি সামগ্রিকতার পরিধিতে ফেলে আলাপ জমাতে পারতেন। 

১৯৫৬ সালের ১১ অক্টোবর অনিল মারান্ডির জন্ম। ২০১৯ সালে মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কোন মন্তব্য নেই

© all rights reserved - Janajatir Kantho