সাজেকে ইঁদুর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মানবিক সহায়তা প্রদান

 


রাঙামাটির সাজেকে ইঁদুর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে জাবারাং সমিতি। সাম্প্রতিক সময়ে সাজেক ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম ইঁদুর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শিয়ালদাইলুই পাড়া, নং নতুন পাড়া, নং ছড়া নতুন পাড়া এবং নং ত্রিপুরা পাড়া থেকে মোট ৫২ পরিবারের কাছে মানবিক সহায়তা খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ করা হয়েছে।

প্যাকেজে প্রতি পরিবার পেয়েছে ৬০ কেজি চাউল, কেজি ডাল, কেজি লবণ, লিটার সয়াবিন তেল এবং ৫০০ গ্রাম সিদোল শুটকি।

আয়োজক সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা' উপস্থাপনায় এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি' সদস্য কার্বারী প্রতিনিধি ভুবন ত্রিপুরা' সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাজেক থানা' উপ-পরিদর্শক মোঃ মামুন, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা মন্টু কুমার ত্রিপুরা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ স্টার্ট নেটওয়ার্ক এর অর্থায়নে কারিতাস বাংলাদেশ এর কারিগরী সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি Alert B0-67 (Humanitarian Assistance to Rat Flood Affected Peoples in Rangamati District) প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা প্যাকেজ বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৬৬ পরিবারকে প্যাকেজ অনুসারে দুইমাসের জন্য মোট বার বিতরণ করা হবে। 

‘এম এন লারমাই প্রথম আত্মপরিচয়ের রাজনীতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন’


মানবেন্দ্র নারায়ণ (এম এন) লারমাই প্রথম আত্মপরিচয়ের রাজনীতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশে কাঠামোগতভাবে আত্মপরিচয়ের রাজনীতিকে স্পষ্ট করেছেন। একটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারণা দিয়েছিলেন তিনি। বাঙালি হেজিমনির বিরুদ্ধে তিনি আইডেন্টিটির ন্যারেটিভটা বাঁচিয়ে রাখার জন্য তৎকালীন সময়ে জোড়ালো প্রতিবাদ করেছিলেন।

আজ সোমবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নেতা সাবেক সংসদ সদস্য এম এন লারমার ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন লেখক গবেষক পাভেল পার্থ।বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৬ম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।

পাভেল পার্থ আরো বলেন, এম এন লারমা ছোটকাল থেকে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। ১৯৫৫-১৯৬৫ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া বাইনারি বিভাজন পরবর্তীতে বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাইনারি মনস্তত্ত্বকে এখনো এই দেশে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

জেএসএসের কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, কাপ্তাই বাঁধ না করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েই ছাত্র এম এন লারমার প্রতিবাদী জীবন শুরু হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর যে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে, এম এন লারমা ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নকালেই এসব বিষয় নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন।

দীপায়ন খীসা আরো বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন বা জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কখনো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের সঙ্গে সংলাপ করেনি। আমরাও এই দেশের অংশ। তাহলে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের কেন কোনো সংলাপে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হলো না?’ 

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষদেরও অংশীদারত্ব আছে। কিন্তু অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে তাদেরই ভুলে গেল এই সরকার।

সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, ‘বাঙালি হয়ে যাওকথাটার পেছনে বাঙালি মুসলিমদের জাত্যভিমানের ব্যাপারটি রয়েছে। এম এন লারমা বাংলাদেশের মধ্যে থেকে নিজেদের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালেপার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিনামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শান্তিময় চাকমার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অং শোয়ে সিং মারমা প্রমুখ বক্তব্য দেন।  

© all rights reserved - Janajatir Kantho