ঈদের
আগে মধুপুরের চলমান সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ
ও সংশ্লিষ্টরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ
না নেওয়া হলে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার
(৬ মার্চ) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল মধুপুরের আমলীতলা স্কুল মাঠে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে
বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রাকৃতিক শালবন ও প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করে কৃত্রিম লেক খনন,
কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসীদের প্রথাগত নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ
জানিয়ে সম্মিলিত আদিবাসী ছাত্র জনতা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
গারো
স্টুডেন্ট ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিলের সঞ্চালনায় সমাবেশে
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাবেক সভাপতি আন্তনী রেমা। এতে বক্তব্য
রাখেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জন জেত্রা, বাংলাদেশ আদিবাসী
যুব ফোরামের সভাপতি টনি চিরান, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রলয় নকরেক,
আবিমা গারো ইয়ুথ এসোসিয়েশনের মহাসচিব সত্যজিৎ নকরেক, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি কনেজ
চাকমা, আবিমার নারী নেত্রী অপর্না দফো প্রমুখ।
সমাবেশে
বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক শালবনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে সেখানে
কৃত্রিম লেক খনন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন উদ্যোগ শুধু শালবনের ওপরই নয়, বরং বনাঞ্চলে
বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সংস্কৃতির প্রতিও বড় ধরনের অবিচার হবে। তারা
বলেন, শালবন তার স্বাভাবিক ও প্রাচীন রূপেই টিকে থাকুক এবং নিজস্ব মহিমায় সংরক্ষিত
থাকুক।
বক্তারা
আরও উল্লেখ করেন, বনবাসী মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে বন থেকে বিভিন্ন
ধরনের বনআলু, লতাগুল্ম ও ঔষধি উদ্ভিদ সংগ্রহ করতেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এসব প্রাকৃতিক
সম্পদ ও ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের
মধ্য দিয়ে লেক খনন, বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল, রিসোর্ট নির্মাণের মধ্য দিয়ে অবশিষ্ট যেটুকু
বন আছে তা নষ্ট করে স্থানীয় গারো কোচ আদিবাসীদের উচ্চেদের পায়তারা চলছে।
সমাবেশ
থেকে আদিবাসীদের ভূমিতে লেক খনন ও আদিবাসীদের স্বার্থ বিরোধী সকল উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ,
সমতল আদিবাসীদের ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পৃথক মন্ত্রনালয় ও ভূমি কমিশন গঠন,
আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি, সকল আদিবাসী হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত
করা ও মধুপুরে আদিবাসীদের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়।
